একটি উদ্ধৃত

চিন্তাধারার ক্ষেত্রে উলামায়ে দেওবন্দের ভারসাম্যমূলক অবস্থা

আল্লামা খালিদ মাহমুদ এম, এ ভুতপূর্ব অধ্যাপক, শিয়ালকোর্ট কলেজ, পাকিস্তান-পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত একজন সুপণ্ডিত ব্যক্তিত্ব্। উর্দূ ও ইংরেজী ভাষায় বক্তৃতা করা ও গ্রন্থ রচনায় তার প্রচুর খ্যাতি বিদ্যমান। ইসলামের প্রচার প্রসার কাজে তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ লন্ডনে অবস্থান করছেন। এ বিজ্ঞ ব্যক্তির উলামায়ে দেওবন্দ সম্পর্কে যেই বাস্তব ও ভারসাম্যপুর্ণ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নিম্নে তা উল্লেখ করা হল:-

উলামায়ে দেওবন্দ  দীনের ‍উপলব্দি ও দীন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এক ভারসাম্যপূর্ণ নীতির অবলম্বনকারী। উপলদ্ধি ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তারা অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। কেননা অতীত থেকে বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন নতুন পথ সৃষ্টিরই নামান্তর, তখন অতীতের সঙ্গে নতুনের কোন ধারাবাহিকতা অবশিষ্ট থাকে না। অনুরূপে তারা এমন বাড়াবাড়ীর  সমর্থনও করে না যে, বাপ-দাদার প্রশ্নাতীত আনুগত্যের অধীনে যাবতীয় রেওয়াজ, প্রথা-প্রচলন ও কুসংস্কারকে   দীনের অন্তর্ভুক্ত করে নিবে।কোন সন্দেহ নেই যে, যেই আমলের ধারাবাহিকতা ‘খায়রুর কুরূন’ পর্য ন্হত পাওয়া যায় না সেটি ইসলামের অন্তরর্ভূ ক্ত হতে পারে না। উলামায়ে দেওবন্দ পূর্ববর্তীদের তাকলীদের বিশ্বাসি ও অনুসারী, তবে অন্ধের মত নয় বরং কুরআন-হাদীস ও এ দুই উৎস থেকে নির্গত  ফিকহের  ইসলামীর নামে যে সুত্র চলে আসছে সেই সূত্র অনুযায়ী, তার সীমারেখা অতিক্রম করে নয়। কেননা পবিত্র কুরআনে অজ্ঞ ও বিবেকহীন বাপ-দাদার অন্ধ অনুকরণকে সমালোচনার চোখে দেখেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন –

    اَوَ لَـوْ كَـانَ أبَـاؤهُـمْ لَا يَـعْـقِـلُـوْنَ شَـيْـئًا وَّلَا يَـهْـتَـدُّ وْنَ

অর্থ : যদিও তাদের পিতৃ-পুরুষরা কিছুই বুঝত না এবং সৎপথে পরিচালিত ছিল না। (সুরা বাকারা- ১৭০)

পক্ষান্তরে পূর্ববর্তী ইমাম ও ফকীহগণ যাদেরকে ইলম ও হিদায়াতের আলোকে স্তম্ভ জ্ঞান করা হয়, তাঁদের অনুসরণ কেবল ভাল তাই নয়, শরীয়তের কাম্যও বটে। আমাদেরকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, কেবল নবীদেরই নয়, উপরন্ত সিদ্দীক, সালেহ ও শহীদদের পথে চলার প্রার্থনাও যেন আমরা প্রতিটি নামাযের মধ্যে পেশ করি; কেননা তাঁদের চলা পথই হল সীরাতে মুস্তাকীম। বারী তাআলা ইরশাদ করেন –

اِهْـدِنَا الصِّـرَاطَ الْـمُـسْـتَـقِـيْـمَ- صِـرَاطَ الَّـذِيْـنَ اَنْـعَـمْتَ عَـلَـيْـهِـمُ

আমাদের সরল পথ প্রদর্শন কর, তাদের পথ যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ দান করেছ।(সূরা ফাতেহা- ৫,৬)

চিন্তাধারার ক্ষেত্রে উভয়দিকের ভারসাম্য রক্ষা করার কারণে উলামায়ে দেবন্দ ধর্মীয় ব্যাপারে একদিকে যেমন লাগামহীনতা ও মতামতের বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্ত তেমনি অন্যতিদকে শিরক ও বিদআতের অ্ন্ধকার তাদেরকে গ্রাস করতে পারেনি। তাদের চিন্তাধারা ও কাজ কর্মের দ্বারা ইসলামের যেমন ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে তেমনি কোন ভূইফোড়  চিন্তাধারা বা আমল দীনের ছদ্মাবরণে ইসলামের মধ্যে অনুপ্রবেশ করতে পারেনি। এ সব মনীষী নিজের জ্ঞান চর্চা ও আমলী জীবনের দ্বারা ইসলামের প্রদীপ জ্বালিয়ে গিয়েছেন। আজ তাদের জীবনেতিহাসের প্রতি তাকিয়ে আমরা সগৌরবে বলতে পারি যে, নিঃসন্দেহে ইসলাম একটি জীবন্ত ধর্ম আমাদের এ যুগ থেকে সাহাবায়ে কেরামের সেই সূচনাকাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত আছে।

ওলীগণ ও সূফীগণের সম্পর্কে উলামায়ে দেওবন্দের অনুতূতি হল যে, তাঁরা এ দীনের মৌল প্রাণ। তাদেরই উপর নির্ভর করে আছে মুসলিম উম্মত প্রাণ সত্তা। তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই জাতি সত্তার মৃত্যু বৈ কিছু নয়। এ কারণে দেওবন্দী আলিমগণ ওলী ও সূফীগণের প্রতি ভক্তি ও ভালবাসাকে ঈমান সংরক্ষণের সাথে অনিবার্য মনে করে। তবে এমন বাড়াবাড়ির ভিত্তিতে নয় যে, ভক্তির আতিশর্যে ওলীদেরকে খোদায়ীত্বের আসনে সমাসীন করে দেবে।

দেওবন্দীগণ তাদের ভক্তি করাকে শরীয়ত মুতাবিক জরুরী জ্ঞান করেন। কিন্তু এ ভক্তি করণকে ইবাদত বা উপাসনা মনে করেন না। অনুরূপ অতিভক্তিমূলক তাঁদের কবরকে সিজদা করা, রুকূ করা, তাওয়াফ করা, নজর বা মানত করা কিম্বা কুরবানী বা পশুবলির জায়গায় পরিণত করেন না। বস্তুতঃ হযরত শায়খ আলী হাজুইরী, হযরত শায়খ মুঈনুদ্দীণ চিশতী, ইমামে রাব্বানী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী ও শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দিহলভী প্রমূখ বুযুর্গদের সঠিক উত্তরাধিকারী এবং তাদের আদর্শে নিজেদের জীবনে সুন্নাহকে প্রতিষ্ঠাকারী দল হলেন, এই দেওবন্দী উলামাগণ।

উলামায়ে দেওবন্দ বৈপ্লবিক চেতনার সাক্ষী

দেওবন্দী বুযুর্গদের আত্নিক ফয়েজ কোন যাদু মন্ত্রের প্রতিফলনরূপে ছিল না বরং সুন্নতাতের উপর কঠিনভাবে আমলের কারণে ছিল। উপরন্ত তাদের সকলে তাসাউফ ও সূলূকের যথা নিয়মে চিশতী, কাদিরী, নকশবন্দী, সহরাওয়ার্দী ইত্যাদি নিসবতের সঙ্গে নিজেদেরকে সর্বদা সম্পৃক্ত রেখে আসছেন্ বরং ‍যদি ইনসাফের নজরে তাকানো হয় তাহলে দেখা যায় যে, বর্ণিত প্রখ্যাত বুযুর্গদের প্রবর্তিত পীর-মুরীদী ও আত্নশুদ্ধির সেই প্রক্রিয়াগুলি বর্তমানকালে কেবল দেওবন্দী আলেমদের  দ্বারাই জীবিত রয়েছে। ইলম ও আমল উভয় ক্ষেত্রে তাঁরা নির্ভরযোগ্য সূত্রের অবলম্বন করে থাকেন। বিদআতের কোন পূর্বসূত্র থাকে না, বিদআত কোন সূত্র বিহীন ভূইফোড় আমল। এ কারণেই দেওবন্দীগণ বিদআতের প্রতিরোধে অগ্রণী ভুমিকা গ্রহণ করে থাকেন।

বিদআতের এহেন প্রতিরোধ নতুন কোন বিষয় নয়, যুগে যুগে ‍বুযুর্গানে দীন এই প্রতিরোধ অভিযান করে আসছেন। হযরত ইমামে রাব্বানী শায়খ আহমাদ সারহিন্দী বিদআতের প্রতিরোধ সম্পর্কে বলেন, বিদআতের নাম ও অনুকণ করা থেকেও এতচুকু বিরত না হবে যতটুকু বিদআতে সাইয়্যবা থেকে সাধারণতঃ বিরত থাকা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত রূহানিয়াতের গন্ধও মুরীদের মস্তিস্কে পৌছতে পারে না।

বাংলাদেশের পীর মাশায়েখগণ

বাংলাদেশের পীর মাশায়েখগণ
বাংলাদেশের পীর মাশায়েখগণ

বাংলাদেশ হক্কানি ওলামাদের  মধ্যে দুটি শাখায় তাযকিয়া তাচাউফের খেদমত আঞ্জাম দেয়া হচ্ছে-

১। থানভী সিলসিলা: যা হাকীমুল উম্মত আল্লামা আশরাফ আলী থানভীর খুলাফা ও মুতায়াল্লেকীনের মাধ্যমে। আর হযরত থানভী রহ. খলিফা ছিলেন, হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মাক্কি রহ. এর।

২। মাদানী সিলসিলা: যা মুজাহিদে মিল্লাত জানাশীনে শাইখুল হিন্দ, শাইখুল আরব ওয়াল আজম আওলাদে রাসূল আল্লামা হোছাইন আহমদ মাদনী রহ. এর খুলাফা ও মুতায়াল্লেকীনের মাধ্যমে। যিনি খলীফা ছিলেন, কুতুবুল আলম হযরত রশীদ আহমদ গাংগুহী রহ. এর আর হযরত গাংগুহী রহ. খলীফা হলেন, হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মাক্কী রহ. এর।

এছাড়া মাঠে ময়দানে যে হক্কানী পীর-মাশায়েখ দাওয়াত ও এরশাদের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য হলে- উজানী এবং চরমোনাই। সেগুলোও সে একই বাগানের ফুল। যেমন- চরমোনাই পীর সাহেব মরহুম হযরত মাও. ইছহাক ছাহেব রহ. খলীফা ছিলেন, উজানীর কারী ইব্রাহীম ছাহেব রহ. -এর আর হযরত ক্বারী ইব্রাহীম ছাহেব রহ. খলীফা ছিলেন কুতুবুল আলম রশীদ আহমদ গাংগুহী রহ. -এর।

তাযকিয়া ও তাসাউফের তরিকা চারটি

দুনিয়াতে ৪টি সিলসিলার মাধ্যমে এ খেদমতটি চলে আসছে-

১। চিশতিয়া

২। কাদেরিয়া

৩। নকশবন্দিয়া

৪। সোহওয়ারদিয়া।  দীর্ঘদিনের এ খেদমতকে গ্রাস করে ফেলল, নানা রকম বিদআত কুসংস্কার, এমনকি কোন কোন অংশে শিরিকও। তাই উলামায়ে দেবন্দ এ মালাসিলে আরবায়া (চার ত্বরিকা) কে শিরিক ও বেদআত মুক্ত করে তাকে আরো বেগবান করে দিয়েছে। বর্তমান দুনিয়ায় যত গুলো শাইখে ত্বরিকত ছহীহ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তারা কোন না কোন ভাবে উলামায়ে দেওবন্দের সাথে সম্পৃক্ত।

জাস্টিস আল্লামা তাক্বী ওছমানি দা. বা. লেখেন

১. দারুল উলূম দেওবন্দ কুরআন ও সুন্নাহর ঐ ব্যাখ্যার নাম, যা ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে এযাম এবং আকাবেরে উম্মতের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

২. এটা সে সহীহ ইলমের নাম, যা বুযুর্গানে দ্বীন পেটে পাথর বেঁধে আমাদের কাছে পৌঁছিয়েছেন।

৩. সে সীরাত ও স্বভাবের সুঘ্রান, যা সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈনে এজামের সীরাত থেকে বিকোশিত হয়েছিল।

৪. সে চেষ্টা মজাহাদা ও ত্যাগের নাম, যার ধারা সম্পৃক্ত বদর ও উহুদের সাথে।

৫. এটা সে ইখলাস, বিনম্রতা, সাদগী, তাকওয়া, তাহারাত, সততা ও নির্ভিকতার নাম, যা ইসলামের ইতিহাসের সর্বযুগে হকপন্থি উলামাদের বৈশিষ্ট ছিল।

উলামায়ে দেওবন্দ বৈপ্লবিক চেতনার সাক্ষী

উলামায়ে দেওবন্দ বৈপ্লবিক চেতনার সাক্ষী

উলামায়ে দেওবন্দ বৈপ্লবিক চেতনার সাক্ষী

১. মাল্টার দেওয়াল সাক্ষী শায়খুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী কেমন ছিলেন।

২. দীনা হাল সাক্ষী শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.- এর সাহসিকতা কেমন ছিল।

৩. জাজিরায়ে আন্দামন সাক্ষী হযরত মাওলানা জাফর থানেশ্বরী রহ. এর ব্যক্তিত্ব কেমন ছিল।

৪. বালাকোটের পাথর কণাগুলো সাক্ষী শাহ ইসমাইল শহীদ রহ. এর বীরত্ব কেমন ছিল।

৫. মিয়া ওয়ালী এবং সিক্ষরের জেলগুলো সাক্ষী শাহ আতাউল্লাহ বুখারী রহ. এর অটলতা কেমন ছিল।

৬. দিল্লি থেকে পেশওয়ার পর্যন্ত গাছগুলো সাক্ষী আছে যে, আলেমরা ফাঁসিতে ঝুলে প্রমাণ করেছিল, জীবন উৎসর্গ করে দেব, তবুও ঈমান বিক্রি করব না। জালেম শাহীর সামনে মাথা নত করব না। মুসলমানের ঈমান ও মস্তকের মূল্য অনেক বেশি।

উলামায়ে দেওবন্দ ইসলামী দূর্গের কর্ণদার

উলামায়ে দেওবন্দ ইসলামী দূর্গের কর্ণদার

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে উলামাদের অবদানের আলোচনা পূর্বে গিয়েছে। পরবর্তী কালেও দেখা যায় বাতেল বা তাগুতী শক্তিগুলো যখন যে পথে, যে অবস্থায় ইসলামের ওপর আঘাত আনার অপচেষ্টা করেছে, উলামায়ে দেওবন্দ ও তার উত্তরসূরীরা তার মূলৎপাটন করতে সর্বাত্মক ত্যাগ স্বীকার করছে।

১. ভারত বর্ষে আর্জ সমাজের ফেৎনা যখন মহাপ্লাবনের মত ধেয়ে আসল, হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী রহ. মুনাজারা মুবাহাসা ও বিতর্কের মাধ্যমে সে প্লাবনকে নিশ্চিহ্ন করে দিল।

২. ইংরেজদের পোষাপুত্র কাদিয়ানিরা ইংরেজদের ছত্র:ছায়ায় খতমে নবুওয়াতকে আবিস্কার করে গোলাম আহমদ কাদিয়ানিকে জিল্লী নবী হিসেবে মিথ্যা প্রচার শুরু করল, তখন হযরত শাহ আনওয়ার কাশমীরী রহ. এবং শাহ আতা উল্লাহ বুখারী রহ. এর নেতৃত্বে আলেমরা সে ফেৎনাকে দমন করে দিল। কাদিয়ানিরা নতুন স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশ পাকিস্তানকে কাদিয়ানি রাষ্ট্র বানানোর সব আয়োজন প্রায় সম্পূর্ণ করেই ফেলছিল। কিন্তু আলেম সমাজ তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন, আলোমদের আন্দোলন না হলে, মুজাহিদরা রক্ত না দিলে, মুসলিম এদেশ  তখন কাদিয়ানিদের দখলে চলে যেত। ১৯৪৭ ইং  পাকিস্তান স্বাধীনতার পর উলামারা আত্মতৃপ্তিতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অন্যদের হাতে ছেড়ে দিয়ে মসজিদ, মাদরাসা ও খানকায়  দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দিতে লাগলেন। মজলিসে আহরারের সদস্যগণ নিজ নিজ  পরিষরে কাজে লেগে গেলেন। ময়দানকে খালি পেয়ে কাদিয়ানিরা নয়া স্বাধীনপ্রাপ্ত রাষ্ট্রের বড় বড় আসনগুলো  দখল করে বসল, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রন তাদের হাতে চলে গেল।আস্পালন এত বেড়ে গেল যে, মির্জা বশীরুদ্দীন মাহমুদ বেলুচিস্তানকে কাদিয়ানি স্টেট ঘোষণা দিল।পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার জাফরুল্লাহ খান পাকিস্তানি দুতাবাস গুলোকে কাদিয়ানি অফিস বানিয়ে ফেলল, মন্ত্রী সেকান্দার মির্জা অভ্যন্তরীন পদ গুলো নিয়ন্ত্রন করতে লাগল, ১৯৫২ ইং তে ৩রা জুন খতমে নবুওয়াতের একটা বড় কনফারেন্স করা হয়, সে সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে কাদিয়ানীদের সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষনা করার জোর দাবী জানানো হবে।

৩. আলা হযরত নামে বেরিলীর রেজাখানিরা অতিমাত্রায় নবী প্রেমের পরিচয় দিতে গিয়ে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাজির নাজির ও আসেমুল গাইব মানা এবং মিলাদ অনুষ্ঠানে নবী সা. এর উপস্থিত হওয়া ইত্যাদি নানা রকম শিরক বিদআত আবিস্কার করে মুসলি সমাজকে ধংশ করতে তৎপর হল, তখন মাওলানা খলীল আহমদ ও মাওলানা সাহারানপুরী’র নেতৃত্বে উলামায়ে দেওবন্দ সে ফেৎনার মুকাবেলা করল। আর যখন ইসলামি গবেষক পরিচয় দিয়ে মাওলানা মওদুদী ইসলামকে নতুন রুপে পেশ করে মুসলিম মিল্লাতকে গ্রাস করতে চাইল সে ফেৎনায়ে মাওদুদীর মুখোশ উম্মোচন করলেন সায়্যেদ হোছাইন আহমদ মাদানী রহ. ও তাঁর সঙ্গীরা। এ ছাড়াও ফেৎনায়ে এনকারে হাদীস (হাদীস অস্বীকার করা) বাহায়ি ফেৎনা, শীয়ায়ি ফেৎনা, লামাযহাবী ফেৎনা, আহলে হাদীস ও এনজিওদের খৃষ্টান বানানোর অপতৎপরতা রোধে যাদেরকে অগ্রগামী পাওয়া যায়, তারাই হলেন, উলামায়ে দেওবন্দ।মোটকথা যখনই মুসলিম মিল্লাত বাতেলের ফিৎনার কবলে পড়ে ধ্বংসের ধার প্রান্তে পৌছেছে, উলামায়ে দেওবন্দ তাদের জামার আস্তিন ধরে তাদেরকে সে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

আকাবেরে দেওবন্দ খুলাফায়ে রাশেদার বংশোদ্ভুত 

১. মাওলানা কাছেম নানুতভী রহ. ও কারী তৈয়্যব ছাহেব রহ. সাইয়্যেদেনা আবু বকর ছিদ্দীক (রা.) এর আওলাদ।

২. হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. মায়ের দিক থেকে হযরত ফাতেমা রাযি. এর আওলাদ ও পিতার দিক থেকে হযরত ওমর ফারুক রাযি. এর আওলাদ।

৩. মুফতী আজীজুর রহমান ওসমানী মুফতী হাবীবুর রহমান ওসমানী মুফতী শফী রহ. ও মুফতী তক্বী ওসমানী। হযরত ওসমান ইবনে আফফান রাযি. এর আওলাদ

৪. সায়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ ও মিয়া আসগর হুসাইন রহ. হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. এর আওলাদ।

 

দাওয়াত ও তাবলীগ

বৃটিশ বেনিয়ারা যখন দুনিয়ার লোভ লালসা দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আল্লাহ্ বিমুখ করার চেষ্টা করতে লাগল, মানুষ মনে করতে লাগল দুনিয়ার অর্থ ও পদ থাকলেই সে সফল। মুসলমানরা ইংরেজদের দেয়া পদ-পদবী- চৌধুরী, পাটওয়ারী, বাহাদুর ও লাট বাহাদুর পদবীকে সফলতার  সোফান মনে করতে লাগল, দ্বীন-ধর্ম আর পরকালকে ভুলতে বসল, তখন আল্লাহ তায়ালার এক দরবেশ ছিফাত মানুষকে বাছাই করলেন,  যিনি মেওয়াতের পরিত্যাক্ত জমীন থেকে দরদ নিয়ে শ্লোগান দিতে লাগলেন, “কোন কিছু থেকে কিছু হয় না, যা কিছু হয় আল্লার পক্ষ থেকে হয”  “কোন তরীকাতে শান্তি আর কামিয়াবী নেই, একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হুকুম এবং মোহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরীকায় মধ্যে শান্তি ও কামিয়াবী”। সে শ্লোগান মেওয়াতের বস্তি থেকে উচ্চারিত হয়ে, দিল্লীর নিজামুদ্দীনকে মারকাজ বানিয়ে পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ জনপদ জয় করতে থাকল, দেশের পর দেশ পাহাড়  পর্বত ডিঙ্গিয়ে, সাগর-নদ-নদী পেরিয়ে হাওয়ায়ি জাহাজে চড়ে শ্লোগান ধ্বনিত হতে থাকল পৃথিবীর আনাচে কানাচে। এক সময় দেখাগেল, সে দাওয়াতের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি হচ্ছে, পশ্চিমে আমেরিকার হোয়াইট হাউজের প্রাচিরে, পূর্বে সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের অলি-গলিতে, মাথায় ঝুলি নিয়ে চলছে আর শ্লোগান দিচ্ছে, তোমাদের শ্বেত পাথর আর মরমর পাথরের নির্মিত এ অট্টালিকায় কোন শান্তি নেই, শান্তি আছে একমাত্র আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের তরীকায়। সে আওয়ায আর দাওয়াতের মধ্যে খুঁজে পেল, দিশাহারা মুসলিম মিল্লাত নিজেদের হারানো গন্তব্যস্থল। জয় করে নিল যুবক-বৃদ্ধ, ধনী-গরীব, সাদা-কালো, শিক্ষিত-অশিক্ষিত লাখো কোটি মানুষের হৃদয়। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সর্বস্তরের মানুষ যে মাদুরে বসতে পারে, সব ধরণের মানুষ যে জায়গায় একত্রিত হতে পারে, এক পেয়ালায় পান করা ও একই বাসনে কয়েকজন এক সাথে আহার করতে পারে, সেটাই হল এই তাবলিগ জামাআত। সকল স্তরের মুসলিম মিল্লাত এর ধর্মীয় জ্ঞান আহরণের এক মিলমেলা। অমুসলিম তথা ইয়াহুদী, খৃষ্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধহস সকল পথহারা গুমরাহ লোকগুলো পেতে থাকল সঠিক পথের সন্ধান। তাই তারাও পরিশেষে আসতে লাগল হাজারো অমুসলিম ইসলামসের ছায়াতলে, বিশ্ববাসিকে স্মরণ করিয়ে দিল ইসলামের সে সোনালী যুগ। যেন তা আল্লাহ তায়ালা’র সেই বাণীর প্রতিচ্ছবি- اِذَا جَاءَ نَصْرُاللهِ وَالْفَتْحُ ـ وَرَاَيْتَ النَّاسَ  يَدْخُلُوْنَ فِىْ دِيْنِ اللهِ اَفْوَاجَا   অর্থাৎ: যখন এসে যাবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়, তখন দেখতে পাবে মানুষ দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করছে। (সূরা নাছর)

ধনী-গরিব, শিক্ষিত- মদড়ি-জুয়াড়ি, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, অফিসার-প্রফেসর, অধ্যক্ষ, নায়ক-গায়ক, মালিক-মামলূক, মন্ত্রি-এমপি মোটকথা সব পেশার মানুষগেলো শ্রেণি ভেদাভেদ ভুলে ঝুলি মাথায় নেমে গেল রাস্তায়, চক্ষুদ্বয় নিচের দিকে মধুর কন্ঠে নরম সুবরে ইচ্চারিত করছে- লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু যাদের  মধ্যে না আছে অহংকার-বড়ত্বের অহমিকা, না আছে বর্ণ বৈষম্যের ভেদাভেদ, না আছে উচু-নীচুর তারতম্য। তাঁরা ‍দুনিয়া দেখিয়ে দিয়েছে মাঠে-ময়দানে, পাহাড়-পর্বতে, গাঁও গ্রামের জীর্ণশীর্ণ মসজিদে ঘুমানোর মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি তা খুজে পাওয়া যায়নি বিলাস বহুল জিবনে, পাওয়া যায়নি চোখ ধাঁধাঁনো প্রাসাদে বরং  প্রমাণ হয়ে গেল, নারী, বাড়ী-গাড়ী  নিয়ে মত্ব থাকা যে জীবন, সেটা যেন মরিচিকা ছাড়া আর কিছুিই নয়।

দার্শনিক আল্লামা ডা. ইকবাল মরহুমের কথাটি সত্য মনে হতে লাগল: —

এই চাকচিক্যের  মরিচিকাকে ফূল বাগান মনে করলে—

আরে বেকুব!  তুমি জেলখানাকে বাসস্থান ভাবতে লাাগলো।

হাঁ যে মহান ব্যক্তির আলোচনা চলছিল, তিনি হলেন হযরত মাওলানা ইলিয়াছ কান্দলভী রহ.

শাপলা চত্বর বনাম ঐতিহাসিক শহীদী চত্বর

শাপলা চত্বর বনাম শহীদী চত্বর
শাপলা চত্বর বনাম শহীদী চত্বর: 

বিশ্বমানবতার অগ্রদূত রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইতি ওয়াছাল্লাম এর প্রতি কটাক্ষ করেছিল বাংলার কিছু নাস্তিক-মুরতাদ ও ব্লগাররা। তারা তাদের ব্লগে মুসলমানদের প্রাণপ্রিয় নবী ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কটুক্তি করে পেইসবুকে বেআদবীমূলক কথা পোষ্ট করে, যা অত্যন্ত ঘৃণ্যতম-নিকৃষ্ট-নেক্কারজনক ও নিম্নতর-গুরুতর-জগন্যতম অপরাধের শামিল। তখন বিষাদ-বেদনায় ছেঁয়ে গেল মুসলমানদের অন্তর। জ্বলে উঠল বুকে এক অজানা দাবানলের আগুন। আর ধীরে ধীরে তার অগ্নীশিখা বাড়তে লাগল। বাংলার প্রতিটি মানুষ দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইর অন্তর আহত-হতাহত। মুসলিম জাতির হৃদয় সম্পূর্ণরূপে ক্ষত বিক্ষত। সাধারণ মানুষের এমন সুকঠিন পরিস্থিতিতে বাংলার একপ্রান্তে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ দারুল উলূম হাটহাজারীর মসনদে বসে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ আল্লামা শাহ আহমদ শফী অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয় নিয়ে সুগভীর চিন্তায় নিমগ্ন।

বাংলার সকল প্রান্ত থেকে তখন অনেক আলেম-উলামা-বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মুসলিম হযরতকে ফোন করে তাঁর পরামর্শ চাইলেন। অনেক আলোচনা ও পরামর্শের পর অবশেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী প্রতিবাদ জানালেন পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়ার মাধ্যমে। ব্লগাররা তবুও ক্ষ্যান্ত হয়নি, এমনকি সরকারি মহলে থাকা কিছু নাস্তিকও তাদের মদদ জোগাচ্ছে। তাই অবশেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী ডাক দিলেন সকল মুসলমানদের ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে। নাস্তিক মুরতাদদের বিচারের দাবীতে একত্রিত হওয়ার আহবান জানালেন। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাই সাড়া দিলেন হযরতের সেই আহবানে। তাই জড়ো হলেন ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে্

এদিকে প্রশাসন জারি করলেন ১৪৪ ধারা। সাধারণ মুসলমানদের ও উলামাদের রুখতে নাস্তিকরা ঘোষণা করল হরতালের।

তবুও নবী প্রেমী ‍মুসলিমগণ রাতের আধারে-পায়ে হেটে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রওয়ানা দিলেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন বাধার সমুক্ষিন হয়েও অবশেষে যথা সময়ে উপস্থিত হলো ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে। মুসলমানদের এই গণ জোয়ার-উত্তার তরঙ্গের মতো ধেয়ে আসা টর্নেডোর  গতিতে উপসে পড়া দেখে  বিশ্ববাসী হতবাক-নির্বাক-অবাক। যেভাবে বৃটিশ সম্রাজ্যবাদীর সকল অপশক্তির জড়কে উপড়ে ফেলেছিল, ধুলিস্যাত করে দিয়েছিল তাদের তখন-তাজ, চিরতরে নিশেষ করে দিয়েছিল তাদের অপকৌশল শায়খুল ইসলাম হাযরত হোসাইর আহমাদ মাদানী, ঠিক সেভাবেই তাঁরই যোগ্য উত্তরসুরী ও জানাশীন, আরেক মর্দে মুজাহিদ, উপমহাদেশের বিজ্ঞ আলেমে দীন, বর্তমান জাতির কান্ডারী আল্লামা শাহ আহমদ শফী থেমে দিয়েছে, নাস্তিক-মুরতাদের কর্মকান্ড ও পদযাত্রা। শুধু বাংলা নয়, বিশ্ব নাস্তিক্যবাদীদের জানান দিয়েছে যে, আমরা মুসলিম এখনো সজাগ আছি। অতএব সাবধান!  আমাদের প্রাণের স্পন্দন রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের সাথে বেআদী সহ্য করবোনা।

ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে রচিত হলো, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে রাুসূলপ্রেমীদের এক বিজয়গঁথা ইতিহাস।

অবশেষে পরিপূর্ণ্  দাবী আদায়ে আবারও পুনরায় ৫ই মে শাপলা চত্বরে আল্লামা শাহ আহমদ শফী  ছাহেবের ডাকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম মিল্লাত এক হয়। সারাদিন অত্যন্ত গরমের মাঝেও নবীপ্রেমীরা সেখানে বক্তৃতা ও যিকিরের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। অবশেষে রাত গভীর হলে, একদল নাস্তিক-মুরতাদ অতর্কিত হামলা চালায় এই নিরিহ আলেম উলামা-তালাবা ও নিরিহ মানুষের উপর্। আকষ্মিক হামলায় দিক বেদিক ছুটতে থাকে তারা, তার মধ্যেই কতক শাহাদাতের পেয়ালা পান করে। অন্যরা কোন রকম প্রাণে বেঁচে যায়। আল্লামা আহমদ শফী ও তাঁর সহযোদ্ধারা অসুস্থ  অবস্থায় ফিরে আসেন। এভাবে রচিত হয়, শাপলা চত্বর বনাম ঐতিহাসিক শহীদী চত্বর। শাপলা চত্বরে শহীদের রক্তমাখা ইতিহাস্। পরদিন শহীদানের উদ্দেশ্যে আল্লামা আহমদ শফী দোয়া করেন ও দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান জানান।

কুরবানীর পশু এবং তার মধ্যে শরীক হওয়া

♦ যদি  কোনো অধিক সম্পদশালী লোক শুধু একটি বকরী বা বড় জন্তু থেকে মাত্র একটা অংশ দেয়, তাহলেও তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। (কিফায়াতুল মুফতী : ৮/১৯৮)

♦ কবরী বা খাসী, দুম্বা, ভেঁড়া গাভী, ষাঁড়, বলদ. মহিষ, উট, উটনী এদের প্রত্যেক নর-মাদী দ্বারা কুরবানী করা জায়েয এবং এগুলোই কুরবানীর জন্তু। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/১৯৯)

♦ এ পশুগুলো ব্যতীত বন্যজাতীয় জন্ত যেমন হরিণ, নীলগাই ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী জায়েয নয়। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/১৮৯)

♦ বকরী, খাসী, দুম্বা, ভেঁড়া, নর-মাদী দ্বারা কেবলমাত্র এক নামে একজনই কুরবানী করতে পারে। (ফাতাওয়ায়ে শামী ; ৫/২০১)

♦ যদি এগুলো দ্বারা একাধিক ব্যক্তি ওয়াজিব কুরবানী করে, তাহলে আদায় হবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামী ; ৫/২০১)

♦ গাভী,, বলদ, ষাড়, মহিষ ও উটের মধ্যে এক থেকে সাতজন লোক কুরবানী করতে পারে। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০০)

♦ একটা পূর্ণাঙ্গ খাসী দ্বারা ‍কুরবানী করা উত্তম যখন তার মূল্য গরু ইত্যাদির সাত ভাগের এক অংশের সমান অথবা বেশি হয়। (মাহমূদিয়া : ৪/৩০১)

♦ নর ও মাদী জন্তুর মধ্যে যদি উভয়ের মূল্য ও গোশত সমান হয়, তাহলে মাদী পশু দ্বারা কুরবানী উত্তম। (শামী : ৫/২০৫)

কুরবানীর ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুল ধারণা

কুরবানীর ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুল ধারণা :

♦ আমাদের সমাজে কুরবানীর ক্ষেত্রে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে ফাতাওয়ার কিতাবাদি থেকে তার  কিছু চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হয়েছে-

(ক) বহুলোক কুরবানী করার সমর্থ্য না খাকা সত্ত্বেও মানুষের নিন্দা থেকে বাঁচা এবং লোক দেখানোর জন্যে ঋণ করে হলেও কুরবানী করে।  অথচ কুরবানী একটি ইবাদাত, একমাত্র আল্লাহর সন্তষ্টি ও তার নৈকট্য লাভ করার উদ্দেশ্যে কুরবানী করতে হয়। অন্যথায় কুরবানী কবূল হয় না। এ  ধরনের লোককে  যারা শরীক বানিয়ে কুরবানী করবে, তাদেরও কুরবানী অগ্রহণযোগ্য। (আপকে মাসায়িল ৫/৪১৫)

কুরবানী কখন কার ওপর ওয়াজিব

(খ) অনেকে সামর্থ্যবান, কিন্তু  কুরবানী করে মূলত গোশত খাওয়া ও সংগ্রহের জন্যে। কুরবানীতে ইবাদতের নিয়ত থাকতে হবে অন্যথায় সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। তার সাথে অন্য শরীকদেরও কুরবানী নষ্ট হবে।