উলামায়ে দেওবন্দ ইসলামী দূর্গের কর্ণদার

Spread the love

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে উলামাদের অবদানের আলোচনা পূর্বে গিয়েছে। পরবর্তী কালেও দেখা যায় বাতেল বা তাগুতী শক্তিগুলো যখন যে পথে, যে অবস্থায় ইসলামের ওপর আঘাত আনার অপচেষ্টা করেছে, উলামায়ে দেওবন্দ ও তার উত্তরসূরীরা তার মূলৎপাটন করতে সর্বাত্মক ত্যাগ স্বীকার করছে।

১. ভারত বর্ষে আর্জ সমাজের ফেৎনা যখন মহাপ্লাবনের মত ধেয়ে আসল, হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী রহ. মুনাজারা মুবাহাসা ও বিতর্কের মাধ্যমে সে প্লাবনকে নিশ্চিহ্ন করে দিল।

২. ইংরেজদের পোষাপুত্র কাদিয়ানিরা ইংরেজদের ছত্র:ছায়ায় খতমে নবুওয়াতকে আবিস্কার করে গোলাম আহমদ কাদিয়ানিকে জিল্লী নবী হিসেবে মিথ্যা প্রচার শুরু করল, তখন হযরত শাহ আনওয়ার কাশমীরী রহ. এবং শাহ আতা উল্লাহ বুখারী রহ. এর নেতৃত্বে আলেমরা সে ফেৎনাকে দমন করে দিল। কাদিয়ানিরা নতুন স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশ পাকিস্তানকে কাদিয়ানি রাষ্ট্র বানানোর সব আয়োজন প্রায় সম্পূর্ণ করেই ফেলছিল। কিন্তু আলেম সমাজ তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন, আলোমদের আন্দোলন না হলে, মুজাহিদরা রক্ত না দিলে, মুসলিম এদেশ  তখন কাদিয়ানিদের দখলে চলে যেত। ১৯৪৭ ইং  পাকিস্তান স্বাধীনতার পর উলামারা আত্মতৃপ্তিতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অন্যদের হাতে ছেড়ে দিয়ে মসজিদ, মাদরাসা ও খানকায়  দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দিতে লাগলেন। মজলিসে আহরারের সদস্যগণ নিজ নিজ  পরিষরে কাজে লেগে গেলেন। ময়দানকে খালি পেয়ে কাদিয়ানিরা নয়া স্বাধীনপ্রাপ্ত রাষ্ট্রের বড় বড় আসনগুলো  দখল করে বসল, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রন তাদের হাতে চলে গেল।আস্পালন এত বেড়ে গেল যে, মির্জা বশীরুদ্দীন মাহমুদ বেলুচিস্তানকে কাদিয়ানি স্টেট ঘোষণা দিল।পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার জাফরুল্লাহ খান পাকিস্তানি দুতাবাস গুলোকে কাদিয়ানি অফিস বানিয়ে ফেলল, মন্ত্রী সেকান্দার মির্জা অভ্যন্তরীন পদ গুলো নিয়ন্ত্রন করতে লাগল, ১৯৫২ ইং তে ৩রা জুন খতমে নবুওয়াতের একটা বড় কনফারেন্স করা হয়, সে সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে কাদিয়ানীদের সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষনা করার জোর দাবী জানানো হবে।

৩. আলা হযরত নামে বেরিলীর রেজাখানিরা অতিমাত্রায় নবী প্রেমের পরিচয় দিতে গিয়ে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাজির নাজির ও আসেমুল গাইব মানা এবং মিলাদ অনুষ্ঠানে নবী সা. এর উপস্থিত হওয়া ইত্যাদি নানা রকম শিরক বিদআত আবিস্কার করে মুসলি সমাজকে ধংশ করতে তৎপর হল, তখন মাওলানা খলীল আহমদ ও মাওলানা সাহারানপুরী’র নেতৃত্বে উলামায়ে দেওবন্দ সে ফেৎনার মুকাবেলা করল। আর যখন ইসলামি গবেষক পরিচয় দিয়ে মাওলানা মওদুদী ইসলামকে নতুন রুপে পেশ করে মুসলিম মিল্লাতকে গ্রাস করতে চাইল সে ফেৎনায়ে মাওদুদীর মুখোশ উম্মোচন করলেন সায়্যেদ হোছাইন আহমদ মাদানী রহ. ও তাঁর সঙ্গীরা। এ ছাড়াও ফেৎনায়ে এনকারে হাদীস (হাদীস অস্বীকার করা) বাহায়ি ফেৎনা, শীয়ায়ি ফেৎনা, লামাযহাবী ফেৎনা, আহলে হাদীস ও এনজিওদের খৃষ্টান বানানোর অপতৎপরতা রোধে যাদেরকে অগ্রগামী পাওয়া যায়, তারাই হলেন, উলামায়ে দেওবন্দ।মোটকথা যখনই মুসলিম মিল্লাত বাতেলের ফিৎনার কবলে পড়ে ধ্বংসের ধার প্রান্তে পৌছেছে, উলামায়ে দেওবন্দ তাদের জামার আস্তিন ধরে তাদেরকে সে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

আকাবেরে দেওবন্দ খুলাফায়ে রাশেদার বংশোদ্ভুত 

১. মাওলানা কাছেম নানুতভী রহ. ও কারী তৈয়্যব ছাহেব রহ. সাইয়্যেদেনা আবু বকর ছিদ্দীক (রা.) এর আওলাদ।

২. হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. মায়ের দিক থেকে হযরত ফাতেমা রাযি. এর আওলাদ ও পিতার দিক থেকে হযরত ওমর ফারুক রাযি. এর আওলাদ।

৩. মুফতী আজীজুর রহমান ওসমানী মুফতী হাবীবুর রহমান ওসমানী মুফতী শফী রহ. ও মুফতী তক্বী ওসমানী। হযরত ওসমান ইবনে আফফান রাযি. এর আওলাদ

৪. সায়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ ও মিয়া আসগর হুসাইন রহ. হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. এর আওলাদ।

 


Spread the love

Leave a Comment