কুরবানী কখন কার ওপর ওয়াজিব

Spread the love

কুরবানী কখন কার ওপর ওয়াজিব :

কুরবানী কখন কার ওপর ওয়াজিব

♦ যদি কোনো ব্যক্তি কুরবানীর সময়ে শরয়ী মুসাফির অর্থাৎ স্বীয় বাড়ি থেকে ৪৮ মাইল অথবা ৭৮ কিলোমিটার দূরত্বের সফরে থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির ওপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। (শারহে হেদায়া : ৪/৪৪৩)

অর্থাৎ যে সব হাজী মক্কা শরীফ প্রবেশ থেকে নিয়ে হজ শেষে মক্কা শরীফ ত্যাগ পর্যন্ত উক্ত স্থানগুলোতে ১৫ দিন বা তার অধিক সময় অবস্থান করবে, তারা বর্তমান যুগের বিজ্ঞ ফকীহদের দৃষ্টিতে মুকীম হিসেবে গণ্য হবে। এ সকল স্থানে তারা নামাযও পুরো পড়বে, তবে তারা মুকীম সাব্যস্ত হওয়ায় তাদের ওপর দমে শুকরের অতিরিক্ত (যদি কারেন বা মুতামাত্তে হয়) কুরবানীও করা ওয়াজিব হবে কি-না?

এ নিয়ে হানাফী মাযহাবের বিজ্ঞ আলেমদের মতবিরোধ  রয়েছে। ফাতাওয়ায়ে আলমগিরীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে হাজীগণ মুসাফির  হোক বা মুকীম হোক তাদের কারো ওপন কুরবানী কারা ওয়াজিব নয়।

পক্ষান্তরে আল্লামা কাসানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিসহ অনেকেই হাজীগণ হজের সময় মুকীম সাব্যস্ত হলে নেসাব পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়ার শর্তে তাদের ওপর কুরবানী করা ওযাজিব বলে ফাতওয়া দিয়েছেন। আল্লামা শামী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিও এ মতকে অগ্রগণ্য বলে মত ব্যক্ত করেছেন।

সুতরাং মুকীম হজীদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব হওয়া না হওয়ার এ মতানৈক্য নিরসনে হানাফী মাযহাবের নীতিমালার আলোকে কুরবানী ওয়াজিব ধরে নেয়াই উত্তমপন্থা। এ কারণেই অনেকে এমতটিকে সতর্কতামূলক প্রাধান্য দিয়ে ফাতাওয়া প্রদান করেছেন।

♦ আর সাদকায়ে ফিতরের নিসাব বা পরিমাণ প্রকৃত প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়া শর্ত। (শামী : ৫/১৯৮)

♦ কুরবানী ওয়াজিব হবার জন্য উক্ত নিসাব পরিমাণ মাল এক বছর পূর্ণ থাকা শর্ত নয়। আবার উহা যাকাতের মত মালে নামী (যা বৃদ্ধি পায়) বা ব্যবসার মাল হওয়াও প্রয়োজন নয়। (শামী: ৫/১৯৮)

♦  এজন্য বলা হয় যে, কুরবানীর নিসাব যাকাতের নিসাবের থেকে ‍পৃথক। বরং কুরবানীর নিসাব সাদকায়ে ফিতরের সাথে সম্পর্ক রাখে। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/১৯৮)

♦ আসল অভাব ও প্রয়োজন তাকেই বলা হয়; যা জীবন, ইয্যত-সম্মান রক্ষার জন্য অপরিহার্য। এ পরিমাণ সম্পদ, যার অভাবে জান-মান চলে যাবার ভয় থাকে। নিজের ও পরিবার-পরিজনের বাসস্থান খাওয়া ও পরার ব্যবস্থা থাকা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও হাল-চাষ ইত্যাদির সামানপত্র এর অন্তর্ভুক্ত। (ফাতওয়ায়ে শামী : ৫/১৯৮)

♦ বড় বড় ডেগ, উন্নতমানের বিছানা, গদী, সামিয়ানা, ফ্রিজ, দামি মোবাইল হ্যান্ডসেট, রেডিও, টেলিভিশন/ডিশ ইত্যাদি যরুরী আসবাবপত্রের মধ্যে গণ্য নয়। এজন্য এগুলোর মূল্য যদি নিসাব পর্যন্ত পৌছে তাহলে কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যাবে। (আলমগিরী : ৫/২৯২, শামী ; ১৯৮ পৃষ্ঠা)

অর্থাৎ নিসাবের ক্ষেত্রে 7\tfrac{1}{2} ভরি স্বর্ণ এবং রূপা 52\tfrac{1}{2} তোলা হওয়ার অর্থ হচ্ছে শুধু স্বর্ণ থাকলে (রূপা বা টাকা না থাকলে) এ পরিমাণ স্বর্ণ হওয়া জরুরী। আর শুধু রূপা থাকলে (টাকা বা স্বর্ণ না থাকলে) এ পরিমাণ রূপা হওয়া জরুরী। যদি কারো নিকট কিছু স্বর্ণ আর কিছু রূপা অথবা কিছু  স্বর্ণ কিছু টাকা অথবা কিছু রূপা কিছু টাকা থাকে এসব ক্ষেত্রে 52\tfrac{1}{2} তোলা রূপার দাম পরিমাণ হলেই নিসাবপূর্ণ হয়ে যাবে। এব্যাপারে মানুষের অনেক ভুল বুঝাবুঝি  রয়েছে; যা নিরসন হওয়া আবশ্যক। (আপকে মাসায়িল ৫/৮১)

♦ আবাদী জমির মূল্য তদ্রূপ ফ্ল্যাট বাড়ির মূল্য নিসাবের মধ্যে শামিল নয়; কিন্তু তার ফসল ও আয়/ভাড়া যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকে এবং তার মূল্য নিসাব পরিমাণ হয় তাহলে কুরবানী ওয়াজিব। (শামী : ৫/১৯৮)

♦ নিসাবের মালিক হওয়ার জন্য স্বর্ণ-রৌপ্যের ওজন যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের মুল্যের সমান হয়, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/১৯৮)

♦ সাংসারিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাব এবং বসতঘর ব্যতীত অতিরিক্ত বিক্রির জন্য কৃত ঘর অথবা তার আয় নিসাবের অন্তর্গত। (ফাতওয়ায়ে শামী : ৫/১৯৮)

♦ স্ত্রীলোকের যদি নিসাব পরিমাণ নিজস্ব মাল বা গয়নাপত্র থাকে, তাহলে তার ওপরও কুরবানী ওয়াজিব। (শামী : ৫/১৯৮)

অর্থাৎ যে মহিলার সম্পদ হিসাব করলে নিসাব পূর্ণ হয় না, কিন্তু স্বামীর নিকট মাহরানা পায়, উক্ত মাহর যদিও নগদ পরিশোাধ করার ওয়াদা ছিল; কিন্তু পরিশোধিত হয়নি, তবে স্বামী মাহর দিতে সক্ষম, তাহলে এ মাহরানা আদায় ধরে হিসাব করা হলে যদি কুরবানী নিসাব পূর্ণ হয়, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৭/৫১২)

♦ পাগল সন্তানের নিসাব পরিমাণ মাল থাকলে, তার পক্ষ থেকে তার মাল কিংবা তার অভিভাবকের মাল হতে কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। (শামী)

♦ গরীব ব্যক্তি যদি কুরবানীর দিনগুলোর মধ্যে কুরবানীর নিয়তে কোন জন্তু ক্রয় করে, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যাবে। কেননা তার ক্রয় করাটাই মান্নতের পর্যায়ে পড়ে। যা আদায় করা ওয়াজিব। (ফতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/১৯৮)

♦ কুরবানী শুধু নিজের পক্ষ থেকেই ওয়াজিব হয়; স্ত্রী ও বড় সন্তান-সন্ততির পক্ষ থেকে ওয়াজিব হয় না। (শামী : ৫/২০০)

♦ বিবির পক্ষ থেকে স্বামীর কুরবানী করা এবং স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। (হিন্দিয়া : ৫/১৯৮)

♦ হ্যাঁ, যদি অনুমতি নিয়ে একে অপরের কুরবানী করে, তাহলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। (হিন্দিয়া : ৬/১৯৫, শামী : ৫/২০০)

♦ কাবিননামায় স্ত্রীর পক্ষ থেকে কুরবানী করার ওয়াদা করলে ওয়াদানুযায়ী কুরবানী করতে হবে, না করলে ওয়াদা খেলাফীর গুনাহ হবে।

♦ যদি কোনো লোকের দশটি ছেলে সকলেই একত্রে থাকে, তাহলে শুধু পিতার ওপরই কুরবানী ওয়াজিব হবে। আর যদি ছেলেরা নিসাবের মালিক হয়, তাহলে তাদের কুরবানী পিতার ওপর ওয়াজিব হবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০০)

♦ মিরাসী সম্পত্তি এখনো বন্টন করেনি, এমতাবস্থায় সকলের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী যথেষ্ট নয়; বরং যাদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে পৃথক কুরবানী দেয়া ওয়াজিব।

♦ ঋণ গ্রহণ করে কুরবানী করা উত্তম নয়; কিন্তু কেউ করলে জায়েয হবে এবং সাওয়াবও পাবে। তবে তাকে ঋণ পরিশোধ করার ফিকর করতে হবে। (কিফায়াতুল মফতী ৮/৯৭, ইমদাদুল মুফতিয়ীন ২/৯৬১)

♦ মাদরাসার ছাত্রদের জন্যে নফল কুরবানী করার চেয়ে দীনী কিতাব ক্রয় করা উত্তম। (ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ৪/৩৩৪)

♦ সুদি ব্যাংক বা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরি করা হারাম। এর বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থও হারাম। এ ধরনের চাকুরি যারা করে, তাদের জন্যে হালাল ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ এসেছে এবং সে ব্যবস্থা হওয়া পর্যন্ত ইস্তিগফারের সাথে এ চাকুরির অনুমতি দেয়া হয়েছে; যাতে করে তারা মারাত্মক কোনো সমস্যায় না পড়ে। সুতরাং উক্ত চাকুরির অর্থ দ্বারা যারা কুরবানী করেন, তাদের সাথে অন্যদের শরীক হওয়ার অনুমতি নেই। (ফাতওয়ায়ে শামী : ৫/৩২৬, আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫০৩)

♦ ব্যাংকে বা ইন্সুরেন্সে চাকুরিজীবীদের যদি উপার্জনের অন্য কোনো হালাল মাধ্যম থাকে আর হালাল টাকা দিয়ে শরীক হয়, তাহলে তার সাথে কুরবানী দেয়া যাবে। (ফাতাওয়া শামী : ৫/৩২৬, আহসানুল ফাতওয়া : ৭/৫০৩)

♦ কেউ যদি লোনের টাকা দিয়ে গাভী ক্রয় করে এবং সে গাভীর বাচ্চা হয়, তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করা জায়েয আছে। (ফাতাওয়া রহীমিয়া : ১৬৩)

♦ যদি কোনো বালেগ সন্তান নিসাবওয়ালা হয়, তাহলে তাঁর ওপর ভিন্নভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব। (শামী : ৫/২০০)

♦ কোনো কোনো স্থানে মানুষ এক বছর নিজের নামে এক বছর ছেলের নামে আর এক বছর নিজের স্ত্রীর নামে কুরবানী করে, অর্থাৎ প্রতি বছর নাম পরিবর্তন করতে থাকে এটা জয়েয নয়; বরং যার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হয় প্রতি বছর শুধু তারই কুরবানী করা কর্তব্য অন্যের নামে করলে নিজের কুরবানী আদায় হবে না। (হিন্দিয়া : ৬/১৯৫)

♦ এভাবে সকলেই যদি নিসাবের মালিক হয়, তাহলে সকলের উপরই ভিন্ন ভিন্নভাবে কুরবানী ওয়াজিব। (হিন্দিয়া : ৬/১৯৫)

♦ যদি নিজের নামে কুরবানী না করে অন্যের নামে করে তাহলে তার নিজের যিম্মায় ওয়াজিব বাকী থাকবে। অনুমতি ছাড়া করলে অন্যের কুরবানীও আদায় হবে না। (হিন্দিয়া : ৬/১৯৫)

♦ যদি কোনো মহিলার উসূলকৃত মোহর বা অন্যান্য মাল নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। (হিন্দিয়া : ৬/১৮৭)

♦ পিতার জীবদ্দশায় ছেলেরা যদি একই সাথে কারবার করে তাহলে তাদের সকলের মালকে বন্চন করে যদি প্রত্যেকের ভাগে  নিসাব পরিমাণ সম্পদ হয়, তাহলে প্রত্যেক আকেল, বালেগ ছেলের ওপর পৃথকভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব। (শামী : ৫/২০৯)

♦ যদি এক ভাইয়ের নামে কুরবানী করা হয়, তাহলে বাকী ভাইদের যিম্মা থেকে কুরবানী আদায় হবে না। বরং বাকী থেকে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০৯)

♦ কোনো লোক যদি কুরবানীর জন্য জন্তু ক্রয় করে কুরবানীর দিন আসার পূর্বেই সফরে চলে যায়, তাহলে সফরের মধ্যে তার ওপর কুরবনী ওয়াজিব নয়। (শামী : ৫/১৯৮)

♦ কুরবানী করা ওয়াজিব, ফরয নয়। এজন্য কুরবনী পারিত্যাগকারি ও অস্বীকারকারীকে ফাসিক বলা হয়, কাফির নয়। (শামী : ৫/১৯৬)

♦ মুসাফির হাজী ও অন্যান্যদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। মক্কা-মদীনায় সমবেত বিদেশী হাজীগণ মুসাফির বিধায় তাঁদের কুরবানী ওয়াজিব নয়। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০০)

কেননা ইমাম মুহাম্মাদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর যাহিরী রেওয়ায়াত অনুসারে কুরবানী ওয়াজিব হবার জন্য আকেল, বালেগ হওয়া শর্ত। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০৯)

♦ এর কারণে যে সব সময় পাগল থাকে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। (ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/২৯৫)

কিন্তু যে ব্যক্তি কখনও পাগল হয় আবর কখনও ভাল থাকে, যদি সে নিসাবে মালিক  হয়, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। এভাবে যে ব্যক্তি কুরবনীর দিনসমূহের মধ্যে মারা যায়, তার সম্পর্মে ইমামগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০১)

♦ কুরবানীর জন্য ক্রয় করা  হয়েছে, কিন্তু কুরবানীর পূর্বেই জন্তুটি মারা গেল। যদি ক্রেতা ধনী হয়, তাহলে আরো একটি জন্তু খরিদ করে কুরবানী দেয় যরুরী। আর যদি সে গরীব হয়, তাহলে যরুরী নয়। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ৪/৩০২)

♦ যদি ব্যবসার সম্পদ হয় বা পার্টনারশীপ  ব্যবসার মাল এমন ব্যক্তির নিকট রয়েছে, যে ব্যক্তি অনুপস্থিত। এমতাবস্থায় মালিকের নিকট যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো আসবাব থাকে যা বিক্রয় করে কুরবানী করা যায়, তাহলে তার ওপরও কুরবানী করা ওয়াজিব। অন্যথায় ওয়াজিব নয়। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/২৮৫)

♦ কুরবানীর হুকুম আসার পর আতিরাহ  এবং ফরা’ এর হুকুম রহিত হয়ে গিয়েছে। (আইনুল হিদায়াহ : ৪/১৮২)

জাহিলিয়াতের যুগে রজব মাসের জন্তু বলী দেয়াকে  عتيرة (আতীরাহ) বলা হতো এবং ওই বাচ্চা যা মাদী জানোয়ার থেকে প্রথমে জন্ম হয়, ওটাকে প্রতিমার নামে যবাই করা হত। তাকে  فرع  (ফরা) বলা হতো। (আইনুল হিদায়াহ : ৪/১৮৬)

♦ নিসাবওয়ালা ব্যক্তির মাল যদি কোম্পানির অথবা শরীকদারের নিকট থাকে এবং তার থেকে নেয়া অসম্ভব হয়, তবে তা বিক্রয় করে কুরবানী দেয়া ওয়াজিব। (ইমদাদুল ফাতওয়া : ৩/৫৫৩)

♦ নিসাবের মালিক ব্যক্তি যদি বকরা ঈদের পূর্বে কুরবানী করার মান্নত করে, তাহলে তার ওপর দুটি কুরবানী করা ওয়াজিব। একটি নযর বা মান্নতের, দ্বিতীয়টি নিসাবের। (শামী : ৫/২০৩)

♦ কিন্তু হ্যাঁ, যদি সে এ মান্নত কুরবানীর দিনের মধ্যে তার  কুরবানী করার আগেই করে থাকে; আর এর দ্বারা সে তার কুরবানীর ঘোষণা দেয়া উদ্দেশ্য হয়, তাহলে একটা কুরবানীই যথেষ্ট। আর যদি এরূপ না হয় তাহলে দুটই যরুরী। (শামী :  বাদায়ে থেকে ৫/২০৩)

♦ কোনো গরীব ব্যক্তি যদি নিজের পক্ষ থেকে কুরবানী না করে কোনো মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে করে তাও জায়েয। (মাহমূদিয়া : ৪/৩৩৬)

♦ কিন্তু জায়েয হবার সুরত হলো যদি কোন ক্ষুধার্ত ব্যক্তি নিজে খানা না থেয়ে ধৈর্য ধরে এবং তার খাদ্য অপরকে দিয়ে দেয়, তাহলে এটা যেমন জায়েয, এরূপ মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানীও জায়েয। যদি ওই ব্যক্তি ওসিয়ত না করে যায়, তাহলে এ  কুরবানী জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেই আদায় হবে; সাওয়াব মৃতেরও হবে। (মাহমূদিয়া : ৪/৩৩৬)

অর্থাৎ যার নিকট কিছু যমীন বা একটি বিল্ডিং আছে অথচ এগুলোর উপার্জন নিত্যপ্রয়োজন মিটানোর কাজে লাগানো, তাহলে তা অতিরিক্ত সম্পদে গণ্য হবে আর অতিরিক্ত সম্পদের কিছু অংশ বিক্রি করলে যদি কুরবানীর নিসাবপূর্ণ হয়, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। (শামী : ৩/১৭৮)

কমার্সিয়াল লোন কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় নয়। বরং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যেসব লোন নেয়া হয়, একমাত্র এসব লোনই নিসাবের ক্ষেত্রে বিয়োগ করা হয়। তাই ব্যাংকিং বা ব্যবসায়িক ঋণের কারণে কারো থেকে কুরবানী রহিত হবে না। (ফিকহি মাকালাত : ৩/১৫২)

হ্যাঁ, বাৎসরিক যে লোনের তাকাযা রয়েছে, তা যাকাত বা কুরবানী, সাদকায়ে ফিতরের ক্ষেত্রে বিয়োগ হতে পারে।


Spread the love

Leave a Comment