দাওয়াত ও তাবলীগ

Spread the love

বৃটিশ বেনিয়ারা যখন দুনিয়ার লোভ লালসা দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আল্লাহ্ বিমুখ করার চেষ্টা করতে লাগল, মানুষ মনে করতে লাগল দুনিয়ার অর্থ ও পদ থাকলেই সে সফল। মুসলমানরা ইংরেজদের দেয়া পদ-পদবী- চৌধুরী, পাটওয়ারী, বাহাদুর ও লাট বাহাদুর পদবীকে সফলতার  সোফান মনে করতে লাগল, দ্বীন-ধর্ম আর পরকালকে ভুলতে বসল, তখন আল্লাহ তায়ালার এক দরবেশ ছিফাত মানুষকে বাছাই করলেন,  যিনি মেওয়াতের পরিত্যাক্ত জমীন থেকে দরদ নিয়ে শ্লোগান দিতে লাগলেন, “কোন কিছু থেকে কিছু হয় না, যা কিছু হয় আল্লার পক্ষ থেকে হয”  “কোন তরীকাতে শান্তি আর কামিয়াবী নেই, একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হুকুম এবং মোহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরীকায় মধ্যে শান্তি ও কামিয়াবী”। সে শ্লোগান মেওয়াতের বস্তি থেকে উচ্চারিত হয়ে, দিল্লীর নিজামুদ্দীনকে মারকাজ বানিয়ে পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ জনপদ জয় করতে থাকল, দেশের পর দেশ পাহাড়  পর্বত ডিঙ্গিয়ে, সাগর-নদ-নদী পেরিয়ে হাওয়ায়ি জাহাজে চড়ে শ্লোগান ধ্বনিত হতে থাকল পৃথিবীর আনাচে কানাচে। এক সময় দেখাগেল, সে দাওয়াতের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি হচ্ছে, পশ্চিমে আমেরিকার হোয়াইট হাউজের প্রাচিরে, পূর্বে সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের অলি-গলিতে, মাথায় ঝুলি নিয়ে চলছে আর শ্লোগান দিচ্ছে, তোমাদের শ্বেত পাথর আর মরমর পাথরের নির্মিত এ অট্টালিকায় কোন শান্তি নেই, শান্তি আছে একমাত্র আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের তরীকায়। সে আওয়ায আর দাওয়াতের মধ্যে খুঁজে পেল, দিশাহারা মুসলিম মিল্লাত নিজেদের হারানো গন্তব্যস্থল। জয় করে নিল যুবক-বৃদ্ধ, ধনী-গরীব, সাদা-কালো, শিক্ষিত-অশিক্ষিত লাখো কোটি মানুষের হৃদয়। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সর্বস্তরের মানুষ যে মাদুরে বসতে পারে, সব ধরণের মানুষ যে জায়গায় একত্রিত হতে পারে, এক পেয়ালায় পান করা ও একই বাসনে কয়েকজন এক সাথে আহার করতে পারে, সেটাই হল এই তাবলিগ জামাআত। সকল স্তরের মুসলিম মিল্লাত এর ধর্মীয় জ্ঞান আহরণের এক মিলমেলা। অমুসলিম তথা ইয়াহুদী, খৃষ্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধহস সকল পথহারা গুমরাহ লোকগুলো পেতে থাকল সঠিক পথের সন্ধান। তাই তারাও পরিশেষে আসতে লাগল হাজারো অমুসলিম ইসলামসের ছায়াতলে, বিশ্ববাসিকে স্মরণ করিয়ে দিল ইসলামের সে সোনালী যুগ। যেন তা আল্লাহ তায়ালা’র সেই বাণীর প্রতিচ্ছবি- اِذَا جَاءَ نَصْرُاللهِ وَالْفَتْحُ ـ وَرَاَيْتَ النَّاسَ  يَدْخُلُوْنَ فِىْ دِيْنِ اللهِ اَفْوَاجَا   অর্থাৎ: যখন এসে যাবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়, তখন দেখতে পাবে মানুষ দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করছে। (সূরা নাছর)

ধনী-গরিব, শিক্ষিত- মদড়ি-জুয়াড়ি, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, অফিসার-প্রফেসর, অধ্যক্ষ, নায়ক-গায়ক, মালিক-মামলূক, মন্ত্রি-এমপি মোটকথা সব পেশার মানুষগেলো শ্রেণি ভেদাভেদ ভুলে ঝুলি মাথায় নেমে গেল রাস্তায়, চক্ষুদ্বয় নিচের দিকে মধুর কন্ঠে নরম সুবরে ইচ্চারিত করছে- লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু যাদের  মধ্যে না আছে অহংকার-বড়ত্বের অহমিকা, না আছে বর্ণ বৈষম্যের ভেদাভেদ, না আছে উচু-নীচুর তারতম্য। তাঁরা ‍দুনিয়া দেখিয়ে দিয়েছে মাঠে-ময়দানে, পাহাড়-পর্বতে, গাঁও গ্রামের জীর্ণশীর্ণ মসজিদে ঘুমানোর মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি তা খুজে পাওয়া যায়নি বিলাস বহুল জিবনে, পাওয়া যায়নি চোখ ধাঁধাঁনো প্রাসাদে বরং  প্রমাণ হয়ে গেল, নারী, বাড়ী-গাড়ী  নিয়ে মত্ব থাকা যে জীবন, সেটা যেন মরিচিকা ছাড়া আর কিছুিই নয়।

দার্শনিক আল্লামা ডা. ইকবাল মরহুমের কথাটি সত্য মনে হতে লাগল: —

এই চাকচিক্যের  মরিচিকাকে ফূল বাগান মনে করলে—

আরে বেকুব!  তুমি জেলখানাকে বাসস্থান ভাবতে লাাগলো।

হাঁ যে মহান ব্যক্তির আলোচনা চলছিল, তিনি হলেন হযরত মাওলানা ইলিয়াছ কান্দলভী রহ.


Spread the love

Leave a Comment