রোযা বিশেষত্ব হওয়ার কারণ

Spread the love

রোযার বিশেষত্ব হওয়ার কারণ

ইসলামের স্তম্ভসমূহের মধ্যে রোযা একটি অন্যতম স্তম্ভ। রাসূল (সঃ) এরশাদ করেন যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, “প্রত্যেক নেক কাজের সওয়াব দশ হইতে সাত শতগুণ পর্যন্ত প্রদান করে থাকেন। কিন্তু রোযা কেবল আমা্রই উদ্দেশ্যে রাখা হয় বলিয়া  প্রতিদান আমি স্বয়ং দিব।”

আল্লাহ তয়ালা আরও বলেছেন :     اِنَّـمَا يَـوَفَّـى الصَّـبِـرُوْنَ اَجْـرَهُـمْ بِـغَـيْـرِ حِـسَابٍ

অর্থ : “যাহারা রিপুগুলিকে দমন করে খাঁটি পথে অটল থাকবে, তাহাদিগকে অগণিত সাওয়াব প্রদান করা হবে।” (সূরা যুমার : ১০)

রাসুল আরও বলেছেন : ছবর ঈমানের অর্ধেক আর ছবরের অর্ধেক রোযা। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন : রোযাদারের মুখের  ‍দুর্গন্ধ আমার নিকট মৃগনাভীর সুগন্ধ অপেক্ষা অধিক প্রিয়। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন : “আমার বান্দা কেবল আমার সন্তুষ্টির জন্যই পনাহার এবং স্ত্রী সহবাস বর্জন করেছে, আমি স্বয়ং ইহার বিনিময় বা সাওয়াব প্রদান করব।”

রাসুল (সঃ) বলেছেন, রোযাদারের নিদ্রা ইবাদাত তুল্য আর প্রত্যেকটি শ্বাস-প্রশ্বাস তাসবীহ পাঠের তুল্য এবং প্রার্থনা নির্ঘাত কবুলযোগ্য।  আরো পড়ুন

তিনি আরও বলেছেন, পবিত্র রমযান মাস আসার সঙ্গে সঙ্গে বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানকে তার দলবলসহ বন্দী করা হয়। তখন ঘোষণা করা হয় : “হে কল্যাণকামী! শীঘ্র আস, এখন তোমাদের সময় অর্থাৎ কল্যাণ গ্রহণে দ্রুত অগ্রসর হও। ইহা তোমাদের জন্য সুসময়। আর হে পাপী, থাম, এখন তোমার স্থান নাই। অর্থাৎ তোমাদের পাপের পথ রুদ্ধ হয়েছে। আর রোযার গৌরব ও মর্যাদা এই যে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রোযাকে নিজের দিকে ইশারা করে বলেছেন :   اَلصَّـوْمُ لِـىْ وَاَنَا اَجْـزِيْ بِـهِ

“রোযা আমারই উদ্দেশে রাখা হয় এবং আমি উহার পুরস্কার প্রদান করিব।” যদিও প্রত্যেক  ইবাদতই আল্লাহতায়ালার উদ্দেশেই করা হয়। তথাপি রোযা বিশেষ করিয়া তাহার জন্য নির্ধারিত। যেমন : সারা বিশ্বজগৎ তাহার রাজ্য হইলেও পবিত্র কাবা শরীফকে তাহার ঘর বলা হয়। রোযা সম্পর্কেও অনুরুপ বুঝিবে। রোযা মহিমান্বিত আল্লাহতায়ালার সাথে সম্পর্কযুক্ত হওায়ার কারণ হচ্ছে, রোযার প্রকৃত অর্থ – খায়েশ অর্থাৎ প্রবৃত্তিসমূহ বর্জন করা। ইহা অন্তেরের কাজ যা মানুষের দৃষ্টির অগোচর। কাজেই এতে রিয়ার সম্ভাবনা নাই। শয়তান আল্লাহতায়ালার শত্রু আর এই প্রবৃত্তি শয়তারে সৈন্য। রোযা শয়তানের সৈন্যকে পরাজিত করে। যেহেতু রোযার প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রবৃত্তসমূহ বর্জন করা। এই প্রসঙ্গে রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন : “মানুষের শরীরের শিরায় শিরায় রক্ত যে রূপ সঞ্চারণ  করে, তদ্রূপ শয়তান মানুষের অন্তরের মধ্যে অতি সংগোপনে চলাচল করিতেছে, ক্ষুধার্ত থাকিয়া শয়তানের চলাচলের পথ দুর্গম করিয়া দাও।”

রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন :  اَلصَّـوْمُ جُـنَّـةٌ

“রোযা ঢালস্বরূপ।” উম্মুল মোমেনিন হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা জান্নাতের কপাটে খটখটি দাও।’ আরজ করা হল : কেমন করে? তিনি বললেন, ‘ক্ষুধার দ্বারা।’ রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন, রোযা অনান্য সকল ইবাদতের প্রবেশ দ্বার। রোযার এই সমস্ত গৌরব ও বিশেষত্ব এ কারণে যে প্রবৃত্তি সকল ইবাদতের প্রতিবন্ধক। উদরপূর্তি ভোজনে প্রবৃত্তি প্রবল হয় আর অনাহার ও উপবাস প্রবৃত্তিকে দমন করে।

আরো পড়ুন


Spread the love

Leave a Comment