শাপলা চত্বর বনাম ঐতিহাসিক শহীদী চত্বর

Spread the love

শাপলা চত্বর বনাম শহীদী চত্বর
শাপলা চত্বর বনাম শহীদী চত্বর: 

বিশ্বমানবতার অগ্রদূত রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইতি ওয়াছাল্লাম এর প্রতি কটাক্ষ করেছিল বাংলার কিছু নাস্তিক-মুরতাদ ও ব্লগাররা। তারা তাদের ব্লগে মুসলমানদের প্রাণপ্রিয় নবী ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কটুক্তি করে পেইসবুকে বেআদবীমূলক কথা পোষ্ট করে, যা অত্যন্ত ঘৃণ্যতম-নিকৃষ্ট-নেক্কারজনক ও নিম্নতর-গুরুতর-জগন্যতম অপরাধের শামিল। তখন বিষাদ-বেদনায় ছেঁয়ে গেল মুসলমানদের অন্তর। জ্বলে উঠল বুকে এক অজানা দাবানলের আগুন। আর ধীরে ধীরে তার অগ্নীশিখা বাড়তে লাগল। বাংলার প্রতিটি মানুষ দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইর অন্তর আহত-হতাহত। মুসলিম জাতির হৃদয় সম্পূর্ণরূপে ক্ষত বিক্ষত। সাধারণ মানুষের এমন সুকঠিন পরিস্থিতিতে বাংলার একপ্রান্তে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ দারুল উলূম হাটহাজারীর মসনদে বসে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ আল্লামা শাহ আহমদ শফী অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয় নিয়ে সুগভীর চিন্তায় নিমগ্ন।

বাংলার সকল প্রান্ত থেকে তখন অনেক আলেম-উলামা-বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মুসলিম হযরতকে ফোন করে তাঁর পরামর্শ চাইলেন। অনেক আলোচনা ও পরামর্শের পর অবশেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী প্রতিবাদ জানালেন পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়ার মাধ্যমে। ব্লগাররা তবুও ক্ষ্যান্ত হয়নি, এমনকি সরকারি মহলে থাকা কিছু নাস্তিকও তাদের মদদ জোগাচ্ছে। তাই অবশেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী ডাক দিলেন সকল মুসলমানদের ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে। নাস্তিক মুরতাদদের বিচারের দাবীতে একত্রিত হওয়ার আহবান জানালেন। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাই সাড়া দিলেন হযরতের সেই আহবানে। তাই জড়ো হলেন ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে্

এদিকে প্রশাসন জারি করলেন ১৪৪ ধারা। সাধারণ মুসলমানদের ও উলামাদের রুখতে নাস্তিকরা ঘোষণা করল হরতালের।

তবুও নবী প্রেমী ‍মুসলিমগণ রাতের আধারে-পায়ে হেটে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রওয়ানা দিলেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন বাধার সমুক্ষিন হয়েও অবশেষে যথা সময়ে উপস্থিত হলো ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে। মুসলমানদের এই গণ জোয়ার-উত্তার তরঙ্গের মতো ধেয়ে আসা টর্নেডোর  গতিতে উপসে পড়া দেখে  বিশ্ববাসী হতবাক-নির্বাক-অবাক। যেভাবে বৃটিশ সম্রাজ্যবাদীর সকল অপশক্তির জড়কে উপড়ে ফেলেছিল, ধুলিস্যাত করে দিয়েছিল তাদের তখন-তাজ, চিরতরে নিশেষ করে দিয়েছিল তাদের অপকৌশল শায়খুল ইসলাম হাযরত হোসাইর আহমাদ মাদানী, ঠিক সেভাবেই তাঁরই যোগ্য উত্তরসুরী ও জানাশীন, আরেক মর্দে মুজাহিদ, উপমহাদেশের বিজ্ঞ আলেমে দীন, বর্তমান জাতির কান্ডারী আল্লামা শাহ আহমদ শফী থেমে দিয়েছে, নাস্তিক-মুরতাদের কর্মকান্ড ও পদযাত্রা। শুধু বাংলা নয়, বিশ্ব নাস্তিক্যবাদীদের জানান দিয়েছে যে, আমরা মুসলিম এখনো সজাগ আছি। অতএব সাবধান!  আমাদের প্রাণের স্পন্দন রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের সাথে বেআদী সহ্য করবোনা।

ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে রচিত হলো, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে রাুসূলপ্রেমীদের এক বিজয়গঁথা ইতিহাস।

অবশেষে পরিপূর্ণ্  দাবী আদায়ে আবারও পুনরায় ৫ই মে শাপলা চত্বরে আল্লামা শাহ আহমদ শফী  ছাহেবের ডাকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম মিল্লাত এক হয়। সারাদিন অত্যন্ত গরমের মাঝেও নবীপ্রেমীরা সেখানে বক্তৃতা ও যিকিরের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। অবশেষে রাত গভীর হলে, একদল নাস্তিক-মুরতাদ অতর্কিত হামলা চালায় এই নিরিহ আলেম উলামা-তালাবা ও নিরিহ মানুষের উপর্। আকষ্মিক হামলায় দিক বেদিক ছুটতে থাকে তারা, তার মধ্যেই কতক শাহাদাতের পেয়ালা পান করে। অন্যরা কোন রকম প্রাণে বেঁচে যায়। আল্লামা আহমদ শফী ও তাঁর সহযোদ্ধারা অসুস্থ  অবস্থায় ফিরে আসেন। এভাবে রচিত হয়, শাপলা চত্বর বনাম ঐতিহাসিক শহীদী চত্বর। শাপলা চত্বরে শহীদের রক্তমাখা ইতিহাস্। পরদিন শহীদানের উদ্দেশ্যে আল্লামা আহমদ শফী দোয়া করেন ও দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান জানান।


Spread the love

Leave a Comment