বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্ন ও সমাধান

Spread the love
  • 13
    Shares

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্ন ও সমাধান-

বিষয়: বাংলা….

১। ‘আনারস’ ও ‘চাবি’ শব্দ দুটি বাংলা ভাষা প্রহণ করেছে…..

(ক) পর্তুগিজ ভাষা হতে       (খ) আরবি ভাষা হতে       (গ) দেশি ভাষা হতে       (ঘ) ওলন্দাজ ভাষা হতে

উত্তর: (ক) পর্তুগিজ ভাষা হতে।

তথ্য: পর্তুগীজ ভাষার শব্দ হলো- আনারস,  চাবি, বালতি, আলমারি, পেয়ারা, কামরাঙা, গির্জা, যিশু, আতা, জানালা, গুদাম, পাউরুটি, পেরেক, কামরা, আলপিন, কিস্তি, মাশুল, পিস্তল, আচার প্রভৃতি।

২। শুদ্ধ বানান কোনটি?

(ক) মূমুর্ষু              (খ) মুমূর্ষু              (গ) মূমূর্ষ               (ঘ) মুমূর্ষ

উত্তর: (খ) মুমূর্ষু  

তথ্য: মুমূর্ষু’ শব্দটি বিশেষণ পদ। যার অর্থ হলো মরণাপন্ন।

৩। গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত কোনটি?

(ক) শব পোড়া        (খ) মড়া দাহ          (গ) শবদাহ         (ঘ) শব মড়া

উত্তর: (গ) শবদাহ

তথ্য: সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। যেমন: শব (সাধু) + দাহ (সাধু) কিন্তু পোড়া, মড়া, চলিত শব্দ।

৪। ‘কবর’ নাটকটির লেখক…..

(ক) জসীমউদ্দীন           (খ) কাজী নজরুল ইসলাম          (গ) মুনীর চৌধুরী          (ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

উত্তর: (গ) মুনীর চৌধুরী 

তথ্য: ‘কবর’ নাটকটি মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় রণেশদাশ গুপ্তের অনুরোধে নাটকটি রচনা করেন। তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক হলো- রক্তাক্ত প্রন্তর, মানুষ, নষ্ট ছেলে, চিঠি, পলশীর ব্যারাক ও অন্যান্য এবং তাঁর বিখ্যাত অনুবাদকৃত নাটকগুলো হলো- মুখরা রমনী বশীকরণ, রূপার কৌটা, কেউ কিছু বলতে পারে না।

৫। ‘উভয় কূল রক্ষা’ অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন কোনটি?

(ক) কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ                 (খ) চাল না চুলো, ঢেঁকি না কুলো

(গ) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙে                       (ঘ) বোঝার উপর শাকের আঁটি

উত্তর : (গ) সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙে 

তথ্য : কারো পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ অর্থ- কারও সুদিন কারও দুর্দিন। চাল না চুলো, ঢেঁকি না কুলো- নিতান্ত গরীব। সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙে- উভয় কূল রক্ষা। বোঝার উপর শাকের আঁটি- অতিরিক্তের অতিরিক্ত।

৬। ‘রত্নাকর’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ–

(ক) রত্না + কার           (খ) রত্ন + কর          (গ) রত্না + আকার          (ঘ) রত্ন + আকর

উত্তর : (ঘ) রত্ন + আকর 

তথ্য : অ কিংবা আ এর পর অ কিংবা আ অথবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। রত্না (অ) + আকর = অ + আ (রত্নাকর)

৭। শুদ্ধ বাক্য কোনটি?

(ক) দুর্বলবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল          (খ) দুর্বলতাবশত অনাথিনী বসে পড়ল

(গ) দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল           (ঘ) দুর্বলবশত অনাথা বসে পড়ল

উত্তর : (গ) দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল  

৮। ক্রিয়া পদের মূল অংশকে বলা হয়–

(ক) বিভক্তি         (খ) ধাতু          (গ) প্রত্যয়           (ঘ) কৃৎ

উত্তর : (খ) ধাতু 

তথ্য : ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু। শব্দ ও ধাতুর মূলকে বলা হয় প্রকৃতি। আর প্রকৃতির সাথে যে শব্দাংশ যুক্ত হয়ে শব্দ গঠিত হয় তাকে বলে প্রত্যয়।

৯। কোন দ্বিরুক্ত শব্দ জুটি বহুবচন সংকেত করে?

(ক) পাকা পাকা আম          (খ) ছি ছি, কি করছ           (গ) নরম নরম হাত        (ঘ) উড়ু উড়ু মন

উত্তর: (ক) পাকা পাকা আম  

তথ্য : পাকা পাকা দ্বারা আধিক্য বোঝানো হয়েছে।

১০। কোন প্রবচন বাক্য ব্যবহারিক দিক হতে সঠিক?

(ক) যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না                (খ) অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট

(গ) নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা         (ঘ) যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়

উত্তর : (খ) অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট 

১১। ‘শেষের কবিত’ রবীন্দ্রনাথ রচিত—

(ক) কবিতর নাম         (খ) গল্প সংকলনের নাম         (গ) উপন্যাসের নাম          (ঘ) কাব্য সংকলনের নাম

উত্তর : (গ) উপন্যাসের নাম 

তথ্য : ‘শেষের কবিতা’ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রোমান্টিক কাব্যধর্মী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯২৮ সালে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসের চরিত্র হলো, অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো- বৌ ঠাকুরাণীর হাট, চোখের বালি, রাজর্ষি, ঘরে বাইরে, গোরা, নৌকাডুবি, মালঞ্চ, চতুরঙ্গ, চার অধ্যায় প্রভৃতি।

১২। বাংলায় টি, এস, এলিয়টের কবিতার প্রথম অনুবাদক—

(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর               (খ) বিষ্ণু দে              (গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত             (ঘ) বুদ্ধদেব বসু

উত্তর : (ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তথ্য : টি এস, এলিয়টের কবিতার প্রথম অনুবাদক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিষ্ণু দে ১৯৫০ সালে এলিয়েটের কবিতা অনুবাদ করেন। বুদ্ধদেব বসুও ‘এলিয়টের কবিতা’ নামে তার কবিতা অনুবাদ করেন।

১৩। ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের সংকলিত প্রথম কবিতা—

(ক) অগ্রপথিক                (খ) বিদ্রোহী                     (গ) প্রলয়োল্লাস                 (ঘ) ধুমকেতু

উত্তর : (গ) প্রলয়োল্লাস 

তথ্য : নজরুল ইসলামের রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের ১২টি কবিতা  হলো- প্রলয়োল্লাস (প্রথম), বিদ্রোহী (দ্বিতীয়), রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী, ধূমকেতু, মহররম, কামাল পাশা,  আনোয়ার পাশা, রণভেরী, শাত-ইল-আরব,  খেয়া পারের তরণী, কোরবানী। ‘রক্তাম্বরধারিণী মা’ কবিতার জন্য ‘অগ্নিবীণা’ নিষিদ্ধ  হয়।

১৪। কোন বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত?

(ক) তিনিই সমাজের মাথা                    (খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে

(গ) লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল        (ঘ) মাথা নেই আবার মাথা ব্যাথা

উত্তর : (খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে

তথ্য : অপশন (ক) তে ‘মাথা’ শব্দটি- শীর্ষস্থানীয় অর্থে; অপশন (খ) তে- বুদ্ধি; অপশন (গ) তে- অপমান অর্থে এবং অপশন (ঘ) তে- মস্তক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

General Knowledge

১৫। কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?

(ক) নিখুঁত           (খ) আনমনা                (গ) অবহেলা               (ঘ) নিমরাজি

উত্তর : (ঘ) নিমরাজি

তথ্য : নিম-ফারসি, নি এবং অব-সংস্কৃত এবং আন-বাংলা উপসর্গ।

১৬। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র রচয়িতা—

(ক) শামসুর রহমান                   (খ) আলতাফ মাহমুদ

(গ) হাসান হাফিজুর রহমান        (ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী

উত্তর : (ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী

তথ্য : আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচিত প্রশ্নোক্ত গানটি  প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সংকলনে। গানটির প্রথম সুরকার আব্দুল লতিফ এবং বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।

১৭। কোনটি তদ্ভব শব্দ?

(ক) চাঁদ              (খ) সূর্য               (গ) নক্ষত্র               (ঘ) গগন

উত্তর : (ক) চাঁদ

তথ্য : যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত ভাষার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। যেমন: চাঁদ, হাত, ভাত, চামার, কামার, হাতি, সাপ : অপরদিকে- সূর্য, নক্ষত্র, গগণ-তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ।

১৮। বাংলায় কুরআন শরীফের প্রথম অনুবাদক কে?

(ক) কেশব চন্দ্র সেন                                      (খ) গিরীশচন্দ্র সেন

(গ) মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী          (ঘ) মওলানা আকরম খাঁ

উত্তর : (খ) গিরীশচন্দ্র সেন 

তথ্য : বাংলা ভাষায় প্রথম কোনআন শরীফ অনুবাদ করেন ভাই গিরীশ চন্দ্র সেন। তিনি ১৮৮১-১৮৮৬ সালের মধ্যে অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করেন।  আর মুসলমানদের মধ্যে প্রথম কোনআন শরীফ বাংলায় অনুবাদ করেন মাওলানা আমির উদ্দিন বাসুনিয়া। ইংরেজিতে প্রথম কোনআন শরীফ অনুবাদ করেন ড. তালিম আবু নাসের (যুক্তরাষ্ট্র)।


Spread the love
  • 13
    Shares

Leave a Comment