জাস্টিস আল্লামা তাক্বী ওছমানি দা. বা. লেখেন

১. দারুল উলূম দেওবন্দ কুরআন ও সুন্নাহর ঐ ব্যাখ্যার নাম, যা ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে এযাম এবং আকাবেরে উম্মতের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

২. এটা সে সহীহ ইলমের নাম, যা বুযুর্গানে দ্বীন পেটে পাথর বেঁধে আমাদের কাছে পৌঁছিয়েছেন।

৩. সে সীরাত ও স্বভাবের সুঘ্রান, যা সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈনে এজামের সীরাত থেকে বিকোশিত হয়েছিল।

৪. সে চেষ্টা মজাহাদা ও ত্যাগের নাম, যার ধারা সম্পৃক্ত বদর ও উহুদের সাথে।

৫. এটা সে ইখলাস, বিনম্রতা, সাদগী, তাকওয়া, তাহারাত, সততা ও নির্ভিকতার নাম, যা ইসলামের ইতিহাসের সর্বযুগে হকপন্থি উলামাদের বৈশিষ্ট ছিল।

উলামায়ে দেওবন্দ বৈপ্লবিক চেতনার সাক্ষী

উলামায়ে দেওবন্দ বৈপ্লবিক চেতনার সাক্ষী

উলামায়ে দেওবন্দ বৈপ্লবিক চেতনার সাক্ষী

১. মাল্টার দেওয়াল সাক্ষী শায়খুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী কেমন ছিলেন।

২. দীনা হাল সাক্ষী শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.- এর সাহসিকতা কেমন ছিল।

৩. জাজিরায়ে আন্দামন সাক্ষী হযরত মাওলানা জাফর থানেশ্বরী রহ. এর ব্যক্তিত্ব কেমন ছিল।

৪. বালাকোটের পাথর কণাগুলো সাক্ষী শাহ ইসমাইল শহীদ রহ. এর বীরত্ব কেমন ছিল।

৫. মিয়া ওয়ালী এবং সিক্ষরের জেলগুলো সাক্ষী শাহ আতাউল্লাহ বুখারী রহ. এর অটলতা কেমন ছিল।

৬. দিল্লি থেকে পেশওয়ার পর্যন্ত গাছগুলো সাক্ষী আছে যে, আলেমরা ফাঁসিতে ঝুলে প্রমাণ করেছিল, জীবন উৎসর্গ করে দেব, তবুও ঈমান বিক্রি করব না। জালেম শাহীর সামনে মাথা নত করব না। মুসলমানের ঈমান ও মস্তকের মূল্য অনেক বেশি।

উলামায়ে দেওবন্দ ইসলামী দূর্গের কর্ণদার

উলামায়ে দেওবন্দ ইসলামী দূর্গের কর্ণদার

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে উলামাদের অবদানের আলোচনা পূর্বে গিয়েছে। পরবর্তী কালেও দেখা যায় বাতেল বা তাগুতী শক্তিগুলো যখন যে পথে, যে অবস্থায় ইসলামের ওপর আঘাত আনার অপচেষ্টা করেছে, উলামায়ে দেওবন্দ ও তার উত্তরসূরীরা তার মূলৎপাটন করতে সর্বাত্মক ত্যাগ স্বীকার করছে।

১. ভারত বর্ষে আর্জ সমাজের ফেৎনা যখন মহাপ্লাবনের মত ধেয়ে আসল, হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী রহ. মুনাজারা মুবাহাসা ও বিতর্কের মাধ্যমে সে প্লাবনকে নিশ্চিহ্ন করে দিল।

২. ইংরেজদের পোষাপুত্র কাদিয়ানিরা ইংরেজদের ছত্র:ছায়ায় খতমে নবুওয়াতকে আবিস্কার করে গোলাম আহমদ কাদিয়ানিকে জিল্লী নবী হিসেবে মিথ্যা প্রচার শুরু করল, তখন হযরত শাহ আনওয়ার কাশমীরী রহ. এবং শাহ আতা উল্লাহ বুখারী রহ. এর নেতৃত্বে আলেমরা সে ফেৎনাকে দমন করে দিল। কাদিয়ানিরা নতুন স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশ পাকিস্তানকে কাদিয়ানি রাষ্ট্র বানানোর সব আয়োজন প্রায় সম্পূর্ণ করেই ফেলছিল। কিন্তু আলেম সমাজ তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন, আলোমদের আন্দোলন না হলে, মুজাহিদরা রক্ত না দিলে, মুসলিম এদেশ  তখন কাদিয়ানিদের দখলে চলে যেত। ১৯৪৭ ইং  পাকিস্তান স্বাধীনতার পর উলামারা আত্মতৃপ্তিতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অন্যদের হাতে ছেড়ে দিয়ে মসজিদ, মাদরাসা ও খানকায়  দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দিতে লাগলেন। মজলিসে আহরারের সদস্যগণ নিজ নিজ  পরিষরে কাজে লেগে গেলেন। ময়দানকে খালি পেয়ে কাদিয়ানিরা নয়া স্বাধীনপ্রাপ্ত রাষ্ট্রের বড় বড় আসনগুলো  দখল করে বসল, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রন তাদের হাতে চলে গেল।আস্পালন এত বেড়ে গেল যে, মির্জা বশীরুদ্দীন মাহমুদ বেলুচিস্তানকে কাদিয়ানি স্টেট ঘোষণা দিল।পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার জাফরুল্লাহ খান পাকিস্তানি দুতাবাস গুলোকে কাদিয়ানি অফিস বানিয়ে ফেলল, মন্ত্রী সেকান্দার মির্জা অভ্যন্তরীন পদ গুলো নিয়ন্ত্রন করতে লাগল, ১৯৫২ ইং তে ৩রা জুন খতমে নবুওয়াতের একটা বড় কনফারেন্স করা হয়, সে সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে কাদিয়ানীদের সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষনা করার জোর দাবী জানানো হবে।

৩. আলা হযরত নামে বেরিলীর রেজাখানিরা অতিমাত্রায় নবী প্রেমের পরিচয় দিতে গিয়ে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাজির নাজির ও আসেমুল গাইব মানা এবং মিলাদ অনুষ্ঠানে নবী সা. এর উপস্থিত হওয়া ইত্যাদি নানা রকম শিরক বিদআত আবিস্কার করে মুসলি সমাজকে ধংশ করতে তৎপর হল, তখন মাওলানা খলীল আহমদ ও মাওলানা সাহারানপুরী’র নেতৃত্বে উলামায়ে দেওবন্দ সে ফেৎনার মুকাবেলা করল। আর যখন ইসলামি গবেষক পরিচয় দিয়ে মাওলানা মওদুদী ইসলামকে নতুন রুপে পেশ করে মুসলিম মিল্লাতকে গ্রাস করতে চাইল সে ফেৎনায়ে মাওদুদীর মুখোশ উম্মোচন করলেন সায়্যেদ হোছাইন আহমদ মাদানী রহ. ও তাঁর সঙ্গীরা। এ ছাড়াও ফেৎনায়ে এনকারে হাদীস (হাদীস অস্বীকার করা) বাহায়ি ফেৎনা, শীয়ায়ি ফেৎনা, লামাযহাবী ফেৎনা, আহলে হাদীস ও এনজিওদের খৃষ্টান বানানোর অপতৎপরতা রোধে যাদেরকে অগ্রগামী পাওয়া যায়, তারাই হলেন, উলামায়ে দেওবন্দ।মোটকথা যখনই মুসলিম মিল্লাত বাতেলের ফিৎনার কবলে পড়ে ধ্বংসের ধার প্রান্তে পৌছেছে, উলামায়ে দেওবন্দ তাদের জামার আস্তিন ধরে তাদেরকে সে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

আকাবেরে দেওবন্দ খুলাফায়ে রাশেদার বংশোদ্ভুত 

১. মাওলানা কাছেম নানুতভী রহ. ও কারী তৈয়্যব ছাহেব রহ. সাইয়্যেদেনা আবু বকর ছিদ্দীক (রা.) এর আওলাদ।

২. হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. মায়ের দিক থেকে হযরত ফাতেমা রাযি. এর আওলাদ ও পিতার দিক থেকে হযরত ওমর ফারুক রাযি. এর আওলাদ।

৩. মুফতী আজীজুর রহমান ওসমানী মুফতী হাবীবুর রহমান ওসমানী মুফতী শফী রহ. ও মুফতী তক্বী ওসমানী। হযরত ওসমান ইবনে আফফান রাযি. এর আওলাদ

৪. সায়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ ও মিয়া আসগর হুসাইন রহ. হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. এর আওলাদ।

 

দাওয়াত ও তাবলীগ

বৃটিশ বেনিয়ারা যখন দুনিয়ার লোভ লালসা দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আল্লাহ্ বিমুখ করার চেষ্টা করতে লাগল, মানুষ মনে করতে লাগল দুনিয়ার অর্থ ও পদ থাকলেই সে সফল। মুসলমানরা ইংরেজদের দেয়া পদ-পদবী- চৌধুরী, পাটওয়ারী, বাহাদুর ও লাট বাহাদুর পদবীকে সফলতার  সোফান মনে করতে লাগল, দ্বীন-ধর্ম আর পরকালকে ভুলতে বসল, তখন আল্লাহ তায়ালার এক দরবেশ ছিফাত মানুষকে বাছাই করলেন,  যিনি মেওয়াতের পরিত্যাক্ত জমীন থেকে দরদ নিয়ে শ্লোগান দিতে লাগলেন, “কোন কিছু থেকে কিছু হয় না, যা কিছু হয় আল্লার পক্ষ থেকে হয”  “কোন তরীকাতে শান্তি আর কামিয়াবী নেই, একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হুকুম এবং মোহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরীকায় মধ্যে শান্তি ও কামিয়াবী”। সে শ্লোগান মেওয়াতের বস্তি থেকে উচ্চারিত হয়ে, দিল্লীর নিজামুদ্দীনকে মারকাজ বানিয়ে পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ জনপদ জয় করতে থাকল, দেশের পর দেশ পাহাড়  পর্বত ডিঙ্গিয়ে, সাগর-নদ-নদী পেরিয়ে হাওয়ায়ি জাহাজে চড়ে শ্লোগান ধ্বনিত হতে থাকল পৃথিবীর আনাচে কানাচে। এক সময় দেখাগেল, সে দাওয়াতের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি হচ্ছে, পশ্চিমে আমেরিকার হোয়াইট হাউজের প্রাচিরে, পূর্বে সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের অলি-গলিতে, মাথায় ঝুলি নিয়ে চলছে আর শ্লোগান দিচ্ছে, তোমাদের শ্বেত পাথর আর মরমর পাথরের নির্মিত এ অট্টালিকায় কোন শান্তি নেই, শান্তি আছে একমাত্র আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের তরীকায়। সে আওয়ায আর দাওয়াতের মধ্যে খুঁজে পেল, দিশাহারা মুসলিম মিল্লাত নিজেদের হারানো গন্তব্যস্থল। জয় করে নিল যুবক-বৃদ্ধ, ধনী-গরীব, সাদা-কালো, শিক্ষিত-অশিক্ষিত লাখো কোটি মানুষের হৃদয়। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সর্বস্তরের মানুষ যে মাদুরে বসতে পারে, সব ধরণের মানুষ যে জায়গায় একত্রিত হতে পারে, এক পেয়ালায় পান করা ও একই বাসনে কয়েকজন এক সাথে আহার করতে পারে, সেটাই হল এই তাবলিগ জামাআত। সকল স্তরের মুসলিম মিল্লাত এর ধর্মীয় জ্ঞান আহরণের এক মিলমেলা। অমুসলিম তথা ইয়াহুদী, খৃষ্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধহস সকল পথহারা গুমরাহ লোকগুলো পেতে থাকল সঠিক পথের সন্ধান। তাই তারাও পরিশেষে আসতে লাগল হাজারো অমুসলিম ইসলামসের ছায়াতলে, বিশ্ববাসিকে স্মরণ করিয়ে দিল ইসলামের সে সোনালী যুগ। যেন তা আল্লাহ তায়ালা’র সেই বাণীর প্রতিচ্ছবি- اِذَا جَاءَ نَصْرُاللهِ وَالْفَتْحُ ـ وَرَاَيْتَ النَّاسَ  يَدْخُلُوْنَ فِىْ دِيْنِ اللهِ اَفْوَاجَا   অর্থাৎ: যখন এসে যাবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়, তখন দেখতে পাবে মানুষ দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করছে। (সূরা নাছর)

ধনী-গরিব, শিক্ষিত- মদড়ি-জুয়াড়ি, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, অফিসার-প্রফেসর, অধ্যক্ষ, নায়ক-গায়ক, মালিক-মামলূক, মন্ত্রি-এমপি মোটকথা সব পেশার মানুষগেলো শ্রেণি ভেদাভেদ ভুলে ঝুলি মাথায় নেমে গেল রাস্তায়, চক্ষুদ্বয় নিচের দিকে মধুর কন্ঠে নরম সুবরে ইচ্চারিত করছে- লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু যাদের  মধ্যে না আছে অহংকার-বড়ত্বের অহমিকা, না আছে বর্ণ বৈষম্যের ভেদাভেদ, না আছে উচু-নীচুর তারতম্য। তাঁরা ‍দুনিয়া দেখিয়ে দিয়েছে মাঠে-ময়দানে, পাহাড়-পর্বতে, গাঁও গ্রামের জীর্ণশীর্ণ মসজিদে ঘুমানোর মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি তা খুজে পাওয়া যায়নি বিলাস বহুল জিবনে, পাওয়া যায়নি চোখ ধাঁধাঁনো প্রাসাদে বরং  প্রমাণ হয়ে গেল, নারী, বাড়ী-গাড়ী  নিয়ে মত্ব থাকা যে জীবন, সেটা যেন মরিচিকা ছাড়া আর কিছুিই নয়।

দার্শনিক আল্লামা ডা. ইকবাল মরহুমের কথাটি সত্য মনে হতে লাগল: —

এই চাকচিক্যের  মরিচিকাকে ফূল বাগান মনে করলে—

আরে বেকুব!  তুমি জেলখানাকে বাসস্থান ভাবতে লাাগলো।

হাঁ যে মহান ব্যক্তির আলোচনা চলছিল, তিনি হলেন হযরত মাওলানা ইলিয়াছ কান্দলভী রহ.

শাপলা চত্বর বনাম ঐতিহাসিক শহীদী চত্বর

শাপলা চত্বর বনাম শহীদী চত্বর
শাপলা চত্বর বনাম শহীদী চত্বর: 

বিশ্বমানবতার অগ্রদূত রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইতি ওয়াছাল্লাম এর প্রতি কটাক্ষ করেছিল বাংলার কিছু নাস্তিক-মুরতাদ ও ব্লগাররা। তারা তাদের ব্লগে মুসলমানদের প্রাণপ্রিয় নবী ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কটুক্তি করে পেইসবুকে বেআদবীমূলক কথা পোষ্ট করে, যা অত্যন্ত ঘৃণ্যতম-নিকৃষ্ট-নেক্কারজনক ও নিম্নতর-গুরুতর-জগন্যতম অপরাধের শামিল। তখন বিষাদ-বেদনায় ছেঁয়ে গেল মুসলমানদের অন্তর। জ্বলে উঠল বুকে এক অজানা দাবানলের আগুন। আর ধীরে ধীরে তার অগ্নীশিখা বাড়তে লাগল। বাংলার প্রতিটি মানুষ দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইর অন্তর আহত-হতাহত। মুসলিম জাতির হৃদয় সম্পূর্ণরূপে ক্ষত বিক্ষত। সাধারণ মানুষের এমন সুকঠিন পরিস্থিতিতে বাংলার একপ্রান্তে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ দারুল উলূম হাটহাজারীর মসনদে বসে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ আল্লামা শাহ আহমদ শফী অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয় নিয়ে সুগভীর চিন্তায় নিমগ্ন।

বাংলার সকল প্রান্ত থেকে তখন অনেক আলেম-উলামা-বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মুসলিম হযরতকে ফোন করে তাঁর পরামর্শ চাইলেন। অনেক আলোচনা ও পরামর্শের পর অবশেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী প্রতিবাদ জানালেন পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়ার মাধ্যমে। ব্লগাররা তবুও ক্ষ্যান্ত হয়নি, এমনকি সরকারি মহলে থাকা কিছু নাস্তিকও তাদের মদদ জোগাচ্ছে। তাই অবশেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী ডাক দিলেন সকল মুসলমানদের ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে। নাস্তিক মুরতাদদের বিচারের দাবীতে একত্রিত হওয়ার আহবান জানালেন। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাই সাড়া দিলেন হযরতের সেই আহবানে। তাই জড়ো হলেন ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে্

এদিকে প্রশাসন জারি করলেন ১৪৪ ধারা। সাধারণ মুসলমানদের ও উলামাদের রুখতে নাস্তিকরা ঘোষণা করল হরতালের।

তবুও নবী প্রেমী ‍মুসলিমগণ রাতের আধারে-পায়ে হেটে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রওয়ানা দিলেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন বাধার সমুক্ষিন হয়েও অবশেষে যথা সময়ে উপস্থিত হলো ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে। মুসলমানদের এই গণ জোয়ার-উত্তার তরঙ্গের মতো ধেয়ে আসা টর্নেডোর  গতিতে উপসে পড়া দেখে  বিশ্ববাসী হতবাক-নির্বাক-অবাক। যেভাবে বৃটিশ সম্রাজ্যবাদীর সকল অপশক্তির জড়কে উপড়ে ফেলেছিল, ধুলিস্যাত করে দিয়েছিল তাদের তখন-তাজ, চিরতরে নিশেষ করে দিয়েছিল তাদের অপকৌশল শায়খুল ইসলাম হাযরত হোসাইর আহমাদ মাদানী, ঠিক সেভাবেই তাঁরই যোগ্য উত্তরসুরী ও জানাশীন, আরেক মর্দে মুজাহিদ, উপমহাদেশের বিজ্ঞ আলেমে দীন, বর্তমান জাতির কান্ডারী আল্লামা শাহ আহমদ শফী থেমে দিয়েছে, নাস্তিক-মুরতাদের কর্মকান্ড ও পদযাত্রা। শুধু বাংলা নয়, বিশ্ব নাস্তিক্যবাদীদের জানান দিয়েছে যে, আমরা মুসলিম এখনো সজাগ আছি। অতএব সাবধান!  আমাদের প্রাণের স্পন্দন রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের সাথে বেআদী সহ্য করবোনা।

ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে রচিত হলো, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে রাুসূলপ্রেমীদের এক বিজয়গঁথা ইতিহাস।

অবশেষে পরিপূর্ণ্  দাবী আদায়ে আবারও পুনরায় ৫ই মে শাপলা চত্বরে আল্লামা শাহ আহমদ শফী  ছাহেবের ডাকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম মিল্লাত এক হয়। সারাদিন অত্যন্ত গরমের মাঝেও নবীপ্রেমীরা সেখানে বক্তৃতা ও যিকিরের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। অবশেষে রাত গভীর হলে, একদল নাস্তিক-মুরতাদ অতর্কিত হামলা চালায় এই নিরিহ আলেম উলামা-তালাবা ও নিরিহ মানুষের উপর্। আকষ্মিক হামলায় দিক বেদিক ছুটতে থাকে তারা, তার মধ্যেই কতক শাহাদাতের পেয়ালা পান করে। অন্যরা কোন রকম প্রাণে বেঁচে যায়। আল্লামা আহমদ শফী ও তাঁর সহযোদ্ধারা অসুস্থ  অবস্থায় ফিরে আসেন। এভাবে রচিত হয়, শাপলা চত্বর বনাম ঐতিহাসিক শহীদী চত্বর। শাপলা চত্বরে শহীদের রক্তমাখা ইতিহাস্। পরদিন শহীদানের উদ্দেশ্যে আল্লামা আহমদ শফী দোয়া করেন ও দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান জানান।

কুরবানীর পশু এবং তার মধ্যে শরীক হওয়া

♦ যদি  কোনো অধিক সম্পদশালী লোক শুধু একটি বকরী বা বড় জন্তু থেকে মাত্র একটা অংশ দেয়, তাহলেও তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। (কিফায়াতুল মুফতী : ৮/১৯৮)

♦ কবরী বা খাসী, দুম্বা, ভেঁড়া গাভী, ষাঁড়, বলদ. মহিষ, উট, উটনী এদের প্রত্যেক নর-মাদী দ্বারা কুরবানী করা জায়েয এবং এগুলোই কুরবানীর জন্তু। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/১৯৯)

♦ এ পশুগুলো ব্যতীত বন্যজাতীয় জন্ত যেমন হরিণ, নীলগাই ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী জায়েয নয়। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/১৮৯)

♦ বকরী, খাসী, দুম্বা, ভেঁড়া, নর-মাদী দ্বারা কেবলমাত্র এক নামে একজনই কুরবানী করতে পারে। (ফাতাওয়ায়ে শামী ; ৫/২০১)

♦ যদি এগুলো দ্বারা একাধিক ব্যক্তি ওয়াজিব কুরবানী করে, তাহলে আদায় হবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামী ; ৫/২০১)

♦ গাভী,, বলদ, ষাড়, মহিষ ও উটের মধ্যে এক থেকে সাতজন লোক কুরবানী করতে পারে। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০০)

♦ একটা পূর্ণাঙ্গ খাসী দ্বারা ‍কুরবানী করা উত্তম যখন তার মূল্য গরু ইত্যাদির সাত ভাগের এক অংশের সমান অথবা বেশি হয়। (মাহমূদিয়া : ৪/৩০১)

♦ নর ও মাদী জন্তুর মধ্যে যদি উভয়ের মূল্য ও গোশত সমান হয়, তাহলে মাদী পশু দ্বারা কুরবানী উত্তম। (শামী : ৫/২০৫)

কুরবানীর ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুল ধারণা

কুরবানীর ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুল ধারণা :

♦ আমাদের সমাজে কুরবানীর ক্ষেত্রে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে ফাতাওয়ার কিতাবাদি থেকে তার  কিছু চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হয়েছে-

(ক) বহুলোক কুরবানী করার সমর্থ্য না খাকা সত্ত্বেও মানুষের নিন্দা থেকে বাঁচা এবং লোক দেখানোর জন্যে ঋণ করে হলেও কুরবানী করে।  অথচ কুরবানী একটি ইবাদাত, একমাত্র আল্লাহর সন্তষ্টি ও তার নৈকট্য লাভ করার উদ্দেশ্যে কুরবানী করতে হয়। অন্যথায় কুরবানী কবূল হয় না। এ  ধরনের লোককে  যারা শরীক বানিয়ে কুরবানী করবে, তাদেরও কুরবানী অগ্রহণযোগ্য। (আপকে মাসায়িল ৫/৪১৫)

কুরবানী কখন কার ওপর ওয়াজিব

(খ) অনেকে সামর্থ্যবান, কিন্তু  কুরবানী করে মূলত গোশত খাওয়া ও সংগ্রহের জন্যে। কুরবানীতে ইবাদতের নিয়ত থাকতে হবে অন্যথায় সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। তার সাথে অন্য শরীকদেরও কুরবানী নষ্ট হবে।

কুরবানী কখন কার ওপর ওয়াজিব

কুরবানী কখন কার ওপর ওয়াজিব :

কুরবানী কখন কার ওপর ওয়াজিব

♦ যদি কোনো ব্যক্তি কুরবানীর সময়ে শরয়ী মুসাফির অর্থাৎ স্বীয় বাড়ি থেকে ৪৮ মাইল অথবা ৭৮ কিলোমিটার দূরত্বের সফরে থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির ওপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। (শারহে হেদায়া : ৪/৪৪৩)

অর্থাৎ যে সব হাজী মক্কা শরীফ প্রবেশ থেকে নিয়ে হজ শেষে মক্কা শরীফ ত্যাগ পর্যন্ত উক্ত স্থানগুলোতে ১৫ দিন বা তার অধিক সময় অবস্থান করবে, তারা বর্তমান যুগের বিজ্ঞ ফকীহদের দৃষ্টিতে মুকীম হিসেবে গণ্য হবে। এ সকল স্থানে তারা নামাযও পুরো পড়বে, তবে তারা মুকীম সাব্যস্ত হওয়ায় তাদের ওপর দমে শুকরের অতিরিক্ত (যদি কারেন বা মুতামাত্তে হয়) কুরবানীও করা ওয়াজিব হবে কি-না?

এ নিয়ে হানাফী মাযহাবের বিজ্ঞ আলেমদের মতবিরোধ  রয়েছে। ফাতাওয়ায়ে আলমগিরীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে হাজীগণ মুসাফির  হোক বা মুকীম হোক তাদের কারো ওপন কুরবানী কারা ওয়াজিব নয়।

পক্ষান্তরে আল্লামা কাসানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিসহ অনেকেই হাজীগণ হজের সময় মুকীম সাব্যস্ত হলে নেসাব পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়ার শর্তে তাদের ওপর কুরবানী করা ওযাজিব বলে ফাতওয়া দিয়েছেন। আল্লামা শামী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিও এ মতকে অগ্রগণ্য বলে মত ব্যক্ত করেছেন।

সুতরাং মুকীম হজীদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব হওয়া না হওয়ার এ মতানৈক্য নিরসনে হানাফী মাযহাবের নীতিমালার আলোকে কুরবানী ওয়াজিব ধরে নেয়াই উত্তমপন্থা। এ কারণেই অনেকে এমতটিকে সতর্কতামূলক প্রাধান্য দিয়ে ফাতাওয়া প্রদান করেছেন।

♦ আর সাদকায়ে ফিতরের নিসাব বা পরিমাণ প্রকৃত প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়া শর্ত। (শামী : ৫/১৯৮)

♦ কুরবানী ওয়াজিব হবার জন্য উক্ত নিসাব পরিমাণ মাল এক বছর পূর্ণ থাকা শর্ত নয়। আবার উহা যাকাতের মত মালে নামী (যা বৃদ্ধি পায়) বা ব্যবসার মাল হওয়াও প্রয়োজন নয়। (শামী: ৫/১৯৮)

♦  এজন্য বলা হয় যে, কুরবানীর নিসাব যাকাতের নিসাবের থেকে ‍পৃথক। বরং কুরবানীর নিসাব সাদকায়ে ফিতরের সাথে সম্পর্ক রাখে। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/১৯৮)

♦ আসল অভাব ও প্রয়োজন তাকেই বলা হয়; যা জীবন, ইয্যত-সম্মান রক্ষার জন্য অপরিহার্য। এ পরিমাণ সম্পদ, যার অভাবে জান-মান চলে যাবার ভয় থাকে। নিজের ও পরিবার-পরিজনের বাসস্থান খাওয়া ও পরার ব্যবস্থা থাকা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও হাল-চাষ ইত্যাদির সামানপত্র এর অন্তর্ভুক্ত। (ফাতওয়ায়ে শামী : ৫/১৯৮)

♦ বড় বড় ডেগ, উন্নতমানের বিছানা, গদী, সামিয়ানা, ফ্রিজ, দামি মোবাইল হ্যান্ডসেট, রেডিও, টেলিভিশন/ডিশ ইত্যাদি যরুরী আসবাবপত্রের মধ্যে গণ্য নয়। এজন্য এগুলোর মূল্য যদি নিসাব পর্যন্ত পৌছে তাহলে কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যাবে। (আলমগিরী : ৫/২৯২, শামী ; ১৯৮ পৃষ্ঠা)

অর্থাৎ নিসাবের ক্ষেত্রে 7\tfrac{1}{2} ভরি স্বর্ণ এবং রূপা 52\tfrac{1}{2} তোলা হওয়ার অর্থ হচ্ছে শুধু স্বর্ণ থাকলে (রূপা বা টাকা না থাকলে) এ পরিমাণ স্বর্ণ হওয়া জরুরী। আর শুধু রূপা থাকলে (টাকা বা স্বর্ণ না থাকলে) এ পরিমাণ রূপা হওয়া জরুরী। যদি কারো নিকট কিছু স্বর্ণ আর কিছু রূপা অথবা কিছু  স্বর্ণ কিছু টাকা অথবা কিছু রূপা কিছু টাকা থাকে এসব ক্ষেত্রে 52\tfrac{1}{2} তোলা রূপার দাম পরিমাণ হলেই নিসাবপূর্ণ হয়ে যাবে। এব্যাপারে মানুষের অনেক ভুল বুঝাবুঝি  রয়েছে; যা নিরসন হওয়া আবশ্যক। (আপকে মাসায়িল ৫/৮১)

♦ আবাদী জমির মূল্য তদ্রূপ ফ্ল্যাট বাড়ির মূল্য নিসাবের মধ্যে শামিল নয়; কিন্তু তার ফসল ও আয়/ভাড়া যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকে এবং তার মূল্য নিসাব পরিমাণ হয় তাহলে কুরবানী ওয়াজিব। (শামী : ৫/১৯৮)

♦ নিসাবের মালিক হওয়ার জন্য স্বর্ণ-রৌপ্যের ওজন যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের মুল্যের সমান হয়, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/১৯৮)

♦ সাংসারিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাব এবং বসতঘর ব্যতীত অতিরিক্ত বিক্রির জন্য কৃত ঘর অথবা তার আয় নিসাবের অন্তর্গত। (ফাতওয়ায়ে শামী : ৫/১৯৮)

♦ স্ত্রীলোকের যদি নিসাব পরিমাণ নিজস্ব মাল বা গয়নাপত্র থাকে, তাহলে তার ওপরও কুরবানী ওয়াজিব। (শামী : ৫/১৯৮)

অর্থাৎ যে মহিলার সম্পদ হিসাব করলে নিসাব পূর্ণ হয় না, কিন্তু স্বামীর নিকট মাহরানা পায়, উক্ত মাহর যদিও নগদ পরিশোাধ করার ওয়াদা ছিল; কিন্তু পরিশোধিত হয়নি, তবে স্বামী মাহর দিতে সক্ষম, তাহলে এ মাহরানা আদায় ধরে হিসাব করা হলে যদি কুরবানী নিসাব পূর্ণ হয়, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৭/৫১২)

♦ পাগল সন্তানের নিসাব পরিমাণ মাল থাকলে, তার পক্ষ থেকে তার মাল কিংবা তার অভিভাবকের মাল হতে কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। (শামী)

♦ গরীব ব্যক্তি যদি কুরবানীর দিনগুলোর মধ্যে কুরবানীর নিয়তে কোন জন্তু ক্রয় করে, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যাবে। কেননা তার ক্রয় করাটাই মান্নতের পর্যায়ে পড়ে। যা আদায় করা ওয়াজিব। (ফতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/১৯৮)

♦ কুরবানী শুধু নিজের পক্ষ থেকেই ওয়াজিব হয়; স্ত্রী ও বড় সন্তান-সন্ততির পক্ষ থেকে ওয়াজিব হয় না। (শামী : ৫/২০০)

♦ বিবির পক্ষ থেকে স্বামীর কুরবানী করা এবং স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। (হিন্দিয়া : ৫/১৯৮)

♦ হ্যাঁ, যদি অনুমতি নিয়ে একে অপরের কুরবানী করে, তাহলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। (হিন্দিয়া : ৬/১৯৫, শামী : ৫/২০০)

♦ কাবিননামায় স্ত্রীর পক্ষ থেকে কুরবানী করার ওয়াদা করলে ওয়াদানুযায়ী কুরবানী করতে হবে, না করলে ওয়াদা খেলাফীর গুনাহ হবে।

♦ যদি কোনো লোকের দশটি ছেলে সকলেই একত্রে থাকে, তাহলে শুধু পিতার ওপরই কুরবানী ওয়াজিব হবে। আর যদি ছেলেরা নিসাবের মালিক হয়, তাহলে তাদের কুরবানী পিতার ওপর ওয়াজিব হবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০০)

♦ মিরাসী সম্পত্তি এখনো বন্টন করেনি, এমতাবস্থায় সকলের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী যথেষ্ট নয়; বরং যাদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে পৃথক কুরবানী দেয়া ওয়াজিব।

♦ ঋণ গ্রহণ করে কুরবানী করা উত্তম নয়; কিন্তু কেউ করলে জায়েয হবে এবং সাওয়াবও পাবে। তবে তাকে ঋণ পরিশোধ করার ফিকর করতে হবে। (কিফায়াতুল মফতী ৮/৯৭, ইমদাদুল মুফতিয়ীন ২/৯৬১)

♦ মাদরাসার ছাত্রদের জন্যে নফল কুরবানী করার চেয়ে দীনী কিতাব ক্রয় করা উত্তম। (ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ৪/৩৩৪)

♦ সুদি ব্যাংক বা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরি করা হারাম। এর বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থও হারাম। এ ধরনের চাকুরি যারা করে, তাদের জন্যে হালাল ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ এসেছে এবং সে ব্যবস্থা হওয়া পর্যন্ত ইস্তিগফারের সাথে এ চাকুরির অনুমতি দেয়া হয়েছে; যাতে করে তারা মারাত্মক কোনো সমস্যায় না পড়ে। সুতরাং উক্ত চাকুরির অর্থ দ্বারা যারা কুরবানী করেন, তাদের সাথে অন্যদের শরীক হওয়ার অনুমতি নেই। (ফাতওয়ায়ে শামী : ৫/৩২৬, আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫০৩)

♦ ব্যাংকে বা ইন্সুরেন্সে চাকুরিজীবীদের যদি উপার্জনের অন্য কোনো হালাল মাধ্যম থাকে আর হালাল টাকা দিয়ে শরীক হয়, তাহলে তার সাথে কুরবানী দেয়া যাবে। (ফাতাওয়া শামী : ৫/৩২৬, আহসানুল ফাতওয়া : ৭/৫০৩)

♦ কেউ যদি লোনের টাকা দিয়ে গাভী ক্রয় করে এবং সে গাভীর বাচ্চা হয়, তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করা জায়েয আছে। (ফাতাওয়া রহীমিয়া : ১৬৩)

♦ যদি কোনো বালেগ সন্তান নিসাবওয়ালা হয়, তাহলে তাঁর ওপর ভিন্নভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব। (শামী : ৫/২০০)

♦ কোনো কোনো স্থানে মানুষ এক বছর নিজের নামে এক বছর ছেলের নামে আর এক বছর নিজের স্ত্রীর নামে কুরবানী করে, অর্থাৎ প্রতি বছর নাম পরিবর্তন করতে থাকে এটা জয়েয নয়; বরং যার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হয় প্রতি বছর শুধু তারই কুরবানী করা কর্তব্য অন্যের নামে করলে নিজের কুরবানী আদায় হবে না। (হিন্দিয়া : ৬/১৯৫)

♦ এভাবে সকলেই যদি নিসাবের মালিক হয়, তাহলে সকলের উপরই ভিন্ন ভিন্নভাবে কুরবানী ওয়াজিব। (হিন্দিয়া : ৬/১৯৫)

♦ যদি নিজের নামে কুরবানী না করে অন্যের নামে করে তাহলে তার নিজের যিম্মায় ওয়াজিব বাকী থাকবে। অনুমতি ছাড়া করলে অন্যের কুরবানীও আদায় হবে না। (হিন্দিয়া : ৬/১৯৫)

♦ যদি কোনো মহিলার উসূলকৃত মোহর বা অন্যান্য মাল নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। (হিন্দিয়া : ৬/১৮৭)

♦ পিতার জীবদ্দশায় ছেলেরা যদি একই সাথে কারবার করে তাহলে তাদের সকলের মালকে বন্চন করে যদি প্রত্যেকের ভাগে  নিসাব পরিমাণ সম্পদ হয়, তাহলে প্রত্যেক আকেল, বালেগ ছেলের ওপর পৃথকভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব। (শামী : ৫/২০৯)

♦ যদি এক ভাইয়ের নামে কুরবানী করা হয়, তাহলে বাকী ভাইদের যিম্মা থেকে কুরবানী আদায় হবে না। বরং বাকী থেকে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০৯)

♦ কোনো লোক যদি কুরবানীর জন্য জন্তু ক্রয় করে কুরবানীর দিন আসার পূর্বেই সফরে চলে যায়, তাহলে সফরের মধ্যে তার ওপর কুরবনী ওয়াজিব নয়। (শামী : ৫/১৯৮)

♦ কুরবানী করা ওয়াজিব, ফরয নয়। এজন্য কুরবনী পারিত্যাগকারি ও অস্বীকারকারীকে ফাসিক বলা হয়, কাফির নয়। (শামী : ৫/১৯৬)

♦ মুসাফির হাজী ও অন্যান্যদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। মক্কা-মদীনায় সমবেত বিদেশী হাজীগণ মুসাফির বিধায় তাঁদের কুরবানী ওয়াজিব নয়। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০০)

কেননা ইমাম মুহাম্মাদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর যাহিরী রেওয়ায়াত অনুসারে কুরবানী ওয়াজিব হবার জন্য আকেল, বালেগ হওয়া শর্ত। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০৯)

♦ এর কারণে যে সব সময় পাগল থাকে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। (ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/২৯৫)

কিন্তু যে ব্যক্তি কখনও পাগল হয় আবর কখনও ভাল থাকে, যদি সে নিসাবে মালিক  হয়, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। এভাবে যে ব্যক্তি কুরবনীর দিনসমূহের মধ্যে মারা যায়, তার সম্পর্মে ইমামগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। (ফাতাওয়ায়ে শামী : ৫/২০১)

♦ কুরবানীর জন্য ক্রয় করা  হয়েছে, কিন্তু কুরবানীর পূর্বেই জন্তুটি মারা গেল। যদি ক্রেতা ধনী হয়, তাহলে আরো একটি জন্তু খরিদ করে কুরবানী দেয় যরুরী। আর যদি সে গরীব হয়, তাহলে যরুরী নয়। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ৪/৩০২)

♦ যদি ব্যবসার সম্পদ হয় বা পার্টনারশীপ  ব্যবসার মাল এমন ব্যক্তির নিকট রয়েছে, যে ব্যক্তি অনুপস্থিত। এমতাবস্থায় মালিকের নিকট যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো আসবাব থাকে যা বিক্রয় করে কুরবানী করা যায়, তাহলে তার ওপরও কুরবানী করা ওয়াজিব। অন্যথায় ওয়াজিব নয়। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/২৮৫)

♦ কুরবানীর হুকুম আসার পর আতিরাহ  এবং ফরা’ এর হুকুম রহিত হয়ে গিয়েছে। (আইনুল হিদায়াহ : ৪/১৮২)

জাহিলিয়াতের যুগে রজব মাসের জন্তু বলী দেয়াকে  عتيرة (আতীরাহ) বলা হতো এবং ওই বাচ্চা যা মাদী জানোয়ার থেকে প্রথমে জন্ম হয়, ওটাকে প্রতিমার নামে যবাই করা হত। তাকে  فرع  (ফরা) বলা হতো। (আইনুল হিদায়াহ : ৪/১৮৬)

♦ নিসাবওয়ালা ব্যক্তির মাল যদি কোম্পানির অথবা শরীকদারের নিকট থাকে এবং তার থেকে নেয়া অসম্ভব হয়, তবে তা বিক্রয় করে কুরবানী দেয়া ওয়াজিব। (ইমদাদুল ফাতওয়া : ৩/৫৫৩)

♦ নিসাবের মালিক ব্যক্তি যদি বকরা ঈদের পূর্বে কুরবানী করার মান্নত করে, তাহলে তার ওপর দুটি কুরবানী করা ওয়াজিব। একটি নযর বা মান্নতের, দ্বিতীয়টি নিসাবের। (শামী : ৫/২০৩)

♦ কিন্তু হ্যাঁ, যদি সে এ মান্নত কুরবানীর দিনের মধ্যে তার  কুরবানী করার আগেই করে থাকে; আর এর দ্বারা সে তার কুরবানীর ঘোষণা দেয়া উদ্দেশ্য হয়, তাহলে একটা কুরবানীই যথেষ্ট। আর যদি এরূপ না হয় তাহলে দুটই যরুরী। (শামী :  বাদায়ে থেকে ৫/২০৩)

♦ কোনো গরীব ব্যক্তি যদি নিজের পক্ষ থেকে কুরবানী না করে কোনো মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে করে তাও জায়েয। (মাহমূদিয়া : ৪/৩৩৬)

♦ কিন্তু জায়েয হবার সুরত হলো যদি কোন ক্ষুধার্ত ব্যক্তি নিজে খানা না থেয়ে ধৈর্য ধরে এবং তার খাদ্য অপরকে দিয়ে দেয়, তাহলে এটা যেমন জায়েয, এরূপ মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানীও জায়েয। যদি ওই ব্যক্তি ওসিয়ত না করে যায়, তাহলে এ  কুরবানী জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেই আদায় হবে; সাওয়াব মৃতেরও হবে। (মাহমূদিয়া : ৪/৩৩৬)

অর্থাৎ যার নিকট কিছু যমীন বা একটি বিল্ডিং আছে অথচ এগুলোর উপার্জন নিত্যপ্রয়োজন মিটানোর কাজে লাগানো, তাহলে তা অতিরিক্ত সম্পদে গণ্য হবে আর অতিরিক্ত সম্পদের কিছু অংশ বিক্রি করলে যদি কুরবানীর নিসাবপূর্ণ হয়, তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। (শামী : ৩/১৭৮)

কমার্সিয়াল লোন কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় নয়। বরং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যেসব লোন নেয়া হয়, একমাত্র এসব লোনই নিসাবের ক্ষেত্রে বিয়োগ করা হয়। তাই ব্যাংকিং বা ব্যবসায়িক ঋণের কারণে কারো থেকে কুরবানী রহিত হবে না। (ফিকহি মাকালাত : ৩/১৫২)

হ্যাঁ, বাৎসরিক যে লোনের তাকাযা রয়েছে, তা যাকাত বা কুরবানী, সাদকায়ে ফিতরের ক্ষেত্রে বিয়োগ হতে পারে।

রোযা বিশেষত্ব হওয়ার কারণ

রোযার বিশেষত্ব হওয়ার কারণ

ইসলামের স্তম্ভসমূহের মধ্যে রোযা একটি অন্যতম স্তম্ভ। রাসূল (সঃ) এরশাদ করেন যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, “প্রত্যেক নেক কাজের সওয়াব দশ হইতে সাত শতগুণ পর্যন্ত প্রদান করে থাকেন। কিন্তু রোযা কেবল আমা্রই উদ্দেশ্যে রাখা হয় বলিয়া  প্রতিদান আমি স্বয়ং দিব।”

আল্লাহ তয়ালা আরও বলেছেন :     اِنَّـمَا يَـوَفَّـى الصَّـبِـرُوْنَ اَجْـرَهُـمْ بِـغَـيْـرِ حِـسَابٍ

অর্থ : “যাহারা রিপুগুলিকে দমন করে খাঁটি পথে অটল থাকবে, তাহাদিগকে অগণিত সাওয়াব প্রদান করা হবে।” (সূরা যুমার : ১০)

রাসুল আরও বলেছেন : ছবর ঈমানের অর্ধেক আর ছবরের অর্ধেক রোযা। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন : রোযাদারের মুখের  ‍দুর্গন্ধ আমার নিকট মৃগনাভীর সুগন্ধ অপেক্ষা অধিক প্রিয়। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন : “আমার বান্দা কেবল আমার সন্তুষ্টির জন্যই পনাহার এবং স্ত্রী সহবাস বর্জন করেছে, আমি স্বয়ং ইহার বিনিময় বা সাওয়াব প্রদান করব।”

রাসুল (সঃ) বলেছেন, রোযাদারের নিদ্রা ইবাদাত তুল্য আর প্রত্যেকটি শ্বাস-প্রশ্বাস তাসবীহ পাঠের তুল্য এবং প্রার্থনা নির্ঘাত কবুলযোগ্য।  আরো পড়ুন

তিনি আরও বলেছেন, পবিত্র রমযান মাস আসার সঙ্গে সঙ্গে বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানকে তার দলবলসহ বন্দী করা হয়। তখন ঘোষণা করা হয় : “হে কল্যাণকামী! শীঘ্র আস, এখন তোমাদের সময় অর্থাৎ কল্যাণ গ্রহণে দ্রুত অগ্রসর হও। ইহা তোমাদের জন্য সুসময়। আর হে পাপী, থাম, এখন তোমার স্থান নাই। অর্থাৎ তোমাদের পাপের পথ রুদ্ধ হয়েছে। আর রোযার গৌরব ও মর্যাদা এই যে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রোযাকে নিজের দিকে ইশারা করে বলেছেন :   اَلصَّـوْمُ لِـىْ وَاَنَا اَجْـزِيْ بِـهِ

“রোযা আমারই উদ্দেশে রাখা হয় এবং আমি উহার পুরস্কার প্রদান করিব।” যদিও প্রত্যেক  ইবাদতই আল্লাহতায়ালার উদ্দেশেই করা হয়। তথাপি রোযা বিশেষ করিয়া তাহার জন্য নির্ধারিত। যেমন : সারা বিশ্বজগৎ তাহার রাজ্য হইলেও পবিত্র কাবা শরীফকে তাহার ঘর বলা হয়। রোযা সম্পর্কেও অনুরুপ বুঝিবে। রোযা মহিমান্বিত আল্লাহতায়ালার সাথে সম্পর্কযুক্ত হওায়ার কারণ হচ্ছে, রোযার প্রকৃত অর্থ – খায়েশ অর্থাৎ প্রবৃত্তিসমূহ বর্জন করা। ইহা অন্তেরের কাজ যা মানুষের দৃষ্টির অগোচর। কাজেই এতে রিয়ার সম্ভাবনা নাই। শয়তান আল্লাহতায়ালার শত্রু আর এই প্রবৃত্তি শয়তারে সৈন্য। রোযা শয়তানের সৈন্যকে পরাজিত করে। যেহেতু রোযার প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রবৃত্তসমূহ বর্জন করা। এই প্রসঙ্গে রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন : “মানুষের শরীরের শিরায় শিরায় রক্ত যে রূপ সঞ্চারণ  করে, তদ্রূপ শয়তান মানুষের অন্তরের মধ্যে অতি সংগোপনে চলাচল করিতেছে, ক্ষুধার্ত থাকিয়া শয়তানের চলাচলের পথ দুর্গম করিয়া দাও।”

রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন :  اَلصَّـوْمُ جُـنَّـةٌ

“রোযা ঢালস্বরূপ।” উম্মুল মোমেনিন হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা জান্নাতের কপাটে খটখটি দাও।’ আরজ করা হল : কেমন করে? তিনি বললেন, ‘ক্ষুধার দ্বারা।’ রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন, রোযা অনান্য সকল ইবাদতের প্রবেশ দ্বার। রোযার এই সমস্ত গৌরব ও বিশেষত্ব এ কারণে যে প্রবৃত্তি সকল ইবাদতের প্রতিবন্ধক। উদরপূর্তি ভোজনে প্রবৃত্তি প্রবল হয় আর অনাহার ও উপবাস প্রবৃত্তিকে দমন করে।

আরো পড়ুন

কুরআন ও রোযা কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে

কুরআন ও রোযা কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে

কিয়ামতের  কঠিন মসিবতের দিন কোরআন ও রোযা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট সুপারিশ করবে। যেদিন সমস্ত নবী ও রাসুলরা ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি করবে। কেবলমাত্র আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ছাড়া বাকী সব নবী এবং সে দিন আপন রক্ত সম্বন্ধীয় লোক একে অপরের কাছ থেকে পালাতে থাকবে। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুমতি ছাড়া কেহ সুপারিষ করতে পারবে না। সে কঠিন ভয়ংকর দিনে কোরআন ও রোযা বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। যেমন : হাদীস শরীফে এসেছে :

عَـنْ عَـبْـدِ اللهِ بْـنِ عُـمَـرَ (رض) قَـالَ قَـالَ الـنَّـبِـىُّ صلعم اَلـصِّـيَـامُ وَالْـقُـرْأنُ يَـشْـفَـعَـانِ لِـلْعَـبْدِ يَـوْمَ الْـقِـيَـامَـةِ يَـقُـوْلُ الـصِّـيَـامُ اَىْ رَبِّ مَـنَـعْـتُـهُ الـطَّـعَـامَ وَالـشَّـهْـوَةَ فَـشَـفِّـعْـنِـىْ فِـيْـهِ وَيَـقُـوْلُ الْـقُـرْأنُ مَـنَـعْـتُـهُ الـنَّـوْمَ بِـالـلَّـيْلِ فَـشَـفِّـعْـنِـىْ فِـيْـهِ قَالَ فَـيُـشَـفَّـعَانِ

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন : কিয়ামতের দিন রোযা ও কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে : হে আমার রব! আমি তাকে খাদ্য ও  যৌন চাহিদা থেকে বিরত রেখেছি। আমাকে তার ব্যাপারে সাপারিশ করার অনুমতি দিন। কোরআন বলবে, হে আমার বর! আমি তাকে রাত্রে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। আমাকে তার ব্যাপারে সুপারিশ করার অনুমতি দিন। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের উভয়কে সুপারিশ  করার অনুমতি দেয়া হবে (মুসনাদে আহমদ)

অতএব উল্লেখীত হাদীস থেকে অনুধাবন করা যায় যে, কোরআনকে দুনিয়ার জীবনে পরিপূর্ণভাবে মেনে চললে কিয়ামতের দিন কোরআন আমাদের  পক্ষে সুপারিশ করবেন। এমনি রোযাকে সর্বাত্মকভাবে পালন করলে কিয়াকতের দিন রোযাও আমাদের পক্ষে সুপারিশ করবে। ‍উভয়ের সাপারিশের দ্বারা পরকালে শান্তিতে থাকা যাবে। আর কোরআন ও রোযা যদি আমাদের বিপক্ষে সুপারিশ করেন তখন আমাদের জাহান্নম  ছাড়া বিকল্প আর কোন পথ নেই। এজন্য আমাদেরকে বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে এবং সে অনুযায়ী চলতে হবে। আর মাহে রমজানের রোযাগওলো সঠিকভাবে পালন করতে হবে।